
যুদ্ধের কারণে ফ্লাইট বিপর্যয়ে নির্ধারিত সময়ে সৌদি আরবে পৌঁছাতে না পারা এবং এর মধ্যে আকামার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া বাংলাদেশি কর্মীরা পুনরায় দেশটিতে প্রবেশের সুযোগ পাবেন বলে জানিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
পরবর্তী সময়ে সৌদি আরবে যেতে পারলে তাদের প্রবেশের প্রক্রিয়া ইলেকট্রনিক সিস্টেমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন হবে বলেও জানান তিনি।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাজধানীর নিউ ইস্কাটনে বিয়াম ফাউন্ডেশন অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর উদ্দেশে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, সরকার ও রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো একসঙ্গে কাজ করলে জনশক্তি রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব। একই সঙ্গে বিদেশগামী কর্মীদের অভিবাসন ব্যয় কমানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, তিন লাখ টাকায় যেখানে বিদেশে যাওয়া সম্ভব, সেখানে কর্মীদের কাছ থেকে সাত-আট লাখ টাকা নেওয়া অনুচিত। রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে বৈধ উপায়ে ব্যবসা পরিচালনা করতে হবে এবং কর্মীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় থেকে বিরত থাকতে হবে। অভিবাসনের খরচ তুলতে তুলতেই যেন কর্মীদের মূল্যবান সময় পার হয়ে না যায়, সেদিকেও নজর দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
কর্মীদের বিদেশ গমনের প্রক্রিয়া সহজ করা এবং ভিসার বৈধতা দ্রুত যাচাইয়ের জন্য জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোতে (বিএমইটি) আধুনিক প্রযুক্তি চালুর কাজ চলছে বলেও জানান মন্ত্রী। পাশাপাশি অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য উন্মুক্ত ইমেইল সেবা চালু ও তা প্রচারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
গন্তব্য দেশের আইনকানুন যথাযথভাবে মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রচার-প্রচারণায় সরকারের পাশাপাশি রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকেও এগিয়ে আসতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক, এমপি এবং বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. এনামুল হক চৌধুরী।
সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়া। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক সৌদি আরবে কারাবন্দি বাংলাদেশিদের আগামী রমজানে বিশেষ ক্ষমার আওতায় আনার বিষয়ে সৌদি সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে যেকোনো দ্বিপক্ষীয় সমস্যা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি। একই সঙ্গে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে অভিবাসন ব্যয় কমানোর আহ্বান জানান।
সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়া বলেন, সৌদি আরবে দেশটির নিজস্ব নাগরিকদের পর সবচেয়ে বেশি সংখ্যায় বসবাস করেন বাংলাদেশের কর্মীরা। দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সুসম্পর্ক ভবিষ্যতে শ্রম খাতে সহযোগিতা আরও জোরদার ও সমৃদ্ধ করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
আলোচনা সভায় বিএমইটির মহাপরিচালক জামিল আহমেদ, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক মো. আসাদুজ্জামান, বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসেল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রাশেদুল হকসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রিক্রুটিং এজেন্সির প্রতিনিধি এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় রিক্রুটিং এজেন্সির প্রতিনিধিরা তাকামুল পরীক্ষা প্রক্রিয়া সহজ করা, পরীক্ষার ফি কমানো, বিএমইটির জনশক্তি-সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন এবং রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করার দাবি জানান।