
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সম্ভাব্য উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে দশেরা উৎসবের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) স্থানীয় সময় সন্ধ্যায়, পূর্ব দিল্লির, আইপি এক্সটেনশনের উৎসব ময়দানে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তার।
সেখানে রাবণের প্রতীকী মূর্তি পোড়ানোর ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠানেও অংশ নিতে পারেন তিনি। এ উপলক্ষে অনুষ্ঠানস্থল ও আশপাশের এলাকায় তিন স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি, যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও সড়ক ঘুরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনাও করা হয়েছে।
বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দিল্লি পুলিশের দুই কর্মকর্তা এসব তথ্য জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, অনুষ্ঠানস্থল এবং সেখানে যাতায়াতের পথগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বিশেষকরে, সম্ভাব্য হুমকি, বিক্ষোভ এবং কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কা বিবেচনায় রেখেই এ পরিকল্পনা করা হয়েছে।
মূলত, এই অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা ও যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় সশস্ত্র আধাসামরিক বাহিনী এবং দিল্লি পুলিশের প্রায় আড়াই হাজার সদস্য মোতায়েন করা হবে। এ বহরে থাকবেন বিশেষ অস্ত্র ও কৌশলগত অভিযানে প্রশিক্ষিত সোয়াট কমান্ডোরা। তারা দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেলের অধীন সন্ত্রাসবিরোধী ও জিম্মি উদ্ধারকারী ইউনিটের সদস্য।
এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, নিরাপত্তাঝুঁকি এবং অনুষ্ঠানস্থল কিংবা সেখানে যাওয়ার পথে ‘অসামাজিক ব্যক্তিদের’ মাধ্যমে বিক্ষোভ বা বিঘ্ন সৃষ্টির সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে সদস্য মোতায়েন ও যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, নিরাপত্তাব্যবস্থার সবচেয়ে ভেতরের স্তরের দায়িত্বে থাকবে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা স্পেশাল প্রোটেকশন গ্রুপ (এসপিজি)। প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তায় নিয়োজিত দিল্লি পুলিশের বিশেষ শাখার সদস্য ও কমান্ডোরা থাকবেন দ্বিতীয় স্তরে।
নিরাপত্তাব্যবস্থার তৃতীয় বা বাইরের স্তরের দায়িত্ব পালন করবে স্থানীয় পুলিশ। এভাবে তিন স্তরের নিরাপত্তাবলয় তৈরি করে অনুষ্ঠানস্থল ও আশপাশের এলাকায় সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে দশেরা উদ্যাপনকে ঘিরে সম্ভাব্য যানজট এড়াতে আশপাশের সড়কগুলোতে যান চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ এবং বিকল্প পথে যানবাহন পরিচালনার পরিকল্পনাও করা হয়েছে।