
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে মোটরসাইকেল ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে গ্রেফতার দুই সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই সদস্যের বিচারিক প্রক্রিয়া সামরিক আইনে পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তদন্ত আদালত গঠন করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তাদের নিজেদের হেফাজতে চেয়েছে সংস্থাটি। আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করেছেন।
সোমবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে শুনানি শেষে এ আদেশ দেওয়া হয়।
অভিযুক্ত দুই সদস্য হলেন সার্জেন্ট আল মামুন ও সৈনিক নুরুজ্জামান। তারা বর্তমানে ডিজিএফআইয়ে কর্মরত।
ডিজিএফআই মহাপরিচালকের পক্ষে লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. শরীফ উল্যাহ আদালতে আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্ত আদালত গঠন করে সেনা আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে তাদের উপস্থিতি প্রয়োজন। এ প্রক্রিয়া শেষে অগ্রগতি ও ফলাফল আদালতকে জানানো হবে বলেও উল্লেখ করা হয়।
ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধি ও সেনা আইন অনুযায়ী, কর্মরত সামরিক সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা হলে তদন্ত বা কোর্ট মার্শালের স্বার্থে সামরিক কর্তৃপক্ষ আসামিদের নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন করতে পারেন। তবে অভিযোগটি গুরুতর উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভুক্তভোগী যাতে পূর্ণ ন্যায়বিচার পান, তা নিশ্চিত করতে হবে।
এর আগে গত ২৫ অক্টোবর রাজধানীর শ্যামলীর মোটরসাইকেল ব্যবসায়ী মো. শরীফকে অপহরণ করে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে ডিজিএফআইয়ের দুই সদস্যসহ ছয়জনকে গ্রেফতার করে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, পূর্বপরিচয়ের সূত্র ধরে সোহেল রানা নামে এক আনসার সদস্য মোটরসাইকেল কেনার কথা বলে শরীফকে মোহাম্মদপুরের চন্দ্রিমা মডেল টাউনের একটি বাসায় ডেকে নেন। সেখানে তাকে আটকে রেখে মারধর করা হয়। এ সময় প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে অভিযুক্তরা শরীফকে নিয়ে যাওয়ার পথে শিশু হাসপাতালের সামনের পুলিশ চেকপোস্টে তিনি পুলিশের সহায়তা চান। তখন পুলিশ তাদের আটক করে।
এ ঘটনায় শরীফ বাদী হয়ে মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করেন।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন আনসার সদস্য সোহেল রানা এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তাপ্রহরী মুকুল গাজী, মাহফুজুর রহমান ও জিয়াউল ইসলাম।
গ্রেফতারের পর ছয়জনকেই কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন আদালত। পরবর্তী সময়ে দুই ডিজিএফআই সদস্যকে সামরিক কর্তৃপক্ষের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন মঞ্জুর করা হলো।