
বিমানবাহিনীর বরখাস্তকৃত কর্মকর্তা ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কেএম তাহসিফ সাউরির লাশ ভেসে উঠেছে তুরাগ নদে। মঙ্গলবার রাত থেকে উধাও থাকার পরদিন বুধবার (২৯ অক্টোবর) বিকালে তার নিথর দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তবে এই মৃত্যুকে স্রেফ কোনো দুর্ঘটনা বা স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে মেনে নিতে নারাজ তার পরিবার; এটিকে একটি ‘পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড’ দাবি করে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন তাহসিফের খালাতো বোন মোশফেকা জাহান।
পোস্টে মোশফেকা জাহান বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও শেয়ার করার কারণে তাহসিফকে দিনের পর দিন মানসিক যন্ত্রণা দেওয়া হয়েছে। অবসরে পাঠানোর পরও গোয়েন্দারা তাকে নিয়মিত অনুসরণ করতেন বলে তাহসিফ তাকে জানিয়েছিলেন।
তিনি লেখেন, আমার ভাইকে মার্ডার করা হয়েছে, কী দোষ ছিল তার? হাসিনার পালানো ভিডিও শেয়ার করা? যেটি তিনি নিজেও ধারণ করেননি, নাগরিক হিসেবে শেয়ার করেছেন। তার কলিগদের কেউ করেছেন। অবসরে দেওয়া হয়েছে, দিনের পর দিন মানসিক যন্ত্রণা দেওয়ার পরও তাদের শান্তি হয়নি। মেরেই ফেলতে হলো তাকে।
তাহসিফের মৃত্যুর জন্য দায়ীদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে মোশফেকা জাহান প্রশ্ন তোলেন, দেশপ্রেমিক হওয়ার কারণেই কি তার ভাইকে এমন পরিণতির শিকার হতে হয়েছে?
পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, সুস্থ তাহসিফকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে। একই সঙ্গে তার খালার জুলাই আন্দোলনে রাজপথে থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে প্রশ্ন তোলেন, তার খালার কী অপরাধ ছিল?
মোশফেকা জাহান লেখেন, কথা বলা আর হলো না…..!’শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ঐতিহাসিক ভিডিও প্রকাশের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হিসেবে সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির নাম আলোচনায় আসে। তবে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ নিশ্চিত করেনি।
এদিকে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) গত বছরের ৪ আগস্ট জানায়, কোনো ধরনের অভিযোগ ছাড়াই এবং সম্পূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ম অনুসরণ করে অন্য একটি প্রেক্ষাপটে ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফকে অবসরে পাঠানো হয়েছিল।
নৌপুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকাল ৪টার দিকে গাজীপুরের টঙ্গী নৌপুলিশ ফাঁড়ির একটি দল তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তাহসিফের লাশ উদ্ধার করে। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য তার লাশ রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়।
পুলিশের অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদনে বলা হয়, বিকালে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে তুরাগ নদে একটি লাশ ভাসার খবর পায় পুলিশ। দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশটি উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক তথ্যে জানা যায়, উদ্ধারের সময় তার পরনে ছিল সাদা পায়জামা ও কালো পাঞ্জাবি। হাতে ঘড়ি এবং পকেটে একটি আইফোন থাকায় সহজেই তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়। তবে ঠিক কী কারণে তার মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানা যায়নি।