1. manikbdoot@gmail.com : dailylalbarta : dailylalbarta dailylalbarta
ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় ১০ মিনিটেই হামলা চালাতে প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প - দৈনিক লালবার্তা

ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় ১০ মিনিটেই হামলা চালাতে প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প

Reporter Name
  • আপডেটের সময়: Sunday, November 1, 2026,
  • 4 সময় দেখুন

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির অবশিষ্ট স্থাপনাগুলোতে মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে হামলা চালানোর সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক বা দুটি স্থাপনা এখনো লক্ষ্যবস্তু হিসেবে রয়ে গেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেগুলোতে হামলার পরিকল্পনাও প্রস্তুত রয়েছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর সম্ভাবনা নিয়ে এমন মন্তব্য করেন ট্রাম্প।

ইরানে সম্ভাব্য নতুন হামলা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনসহ এক বা দুটি স্থাপনা এখনো বাকি রয়েছে, যেগুলোর বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। আমরা মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে এটি করতে পারি। এজন্য আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে এবং খুব দ্রুত তা বাস্তবায়ন করতে পারব।’

তবে ইরানের সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি ট্রাম্প। তিনি বলেন, তেহরান একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী। এখন দেখা যাক, শেষ পর্যন্ত কী হয়। আলোচনা এগোচ্ছে, তবে ইরানকে খুব একটা নির্ভরযোগ্য মনে করেন না তিনি।

ট্রাম্পের ভাষায়, ‘তারা চুক্তিতে পৌঁছাতে চায়। কিন্তু চুক্তিতে সম্মত হওয়ার পর আবার সেখান থেকে সরে আসে। এবার তারা সত্যিই চুক্তিতে সই করে কি না, সেটিই দেখার বিষয়।’ ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানে নতুন করে হামলা শুরুর প্রস্তুতির মধ্যেই ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন ট্রাম্প।

আরও পড়ুনঃ  ‘যৌন মন্ত্রণালয়’র প্রস্তাবে উত্তাল সংসদ, চেয়ার ছুড়ে এমপিদের মারামারি

এর আগে, সামরিক অভিযান পুনরায় শুরুর বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এ সংক্রান্ত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যে বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, গোলাবারুদ ও সামরিক সরঞ্জাম বাড়িয়েছে পেন্টাগন। একই সঙ্গে ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা হামলার ঝুঁকিতে থাকা কয়েকটি সামরিক ঘাঁটি থেকে সেনা ও সরঞ্জামের অবস্থানও পরিবর্তন করা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু হবে কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক ও সামরিক পর্যায়ে নানা হিসাব-নিকাশ চলছে। আগামী মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ এই নির্বাচন।

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ এবং যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি রিপাবলিকান পার্টির জন্য রাজনৈতিক চাপ তৈরি করেছে। নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে দলটির প্রতি জনসমর্থন ধরে রাখতে চেষ্টা করছেন ট্রাম্প।

আরও পড়ুনঃ  হ্যালোইনের সুযোগে মুখোশ পরে বিশৃঙ্খলার শঙ্কা ফ্রান্স সরকারের, ৭০ হাজার পুলিশ মোতায়েন

এ পরিস্থিতিতে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরুর সময়সূচি পিছিয়ে দিচ্ছে ওয়াশিংটন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে, মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে আলোচনার সময় দীর্ঘায়িত করার কৌশল নিয়েছে তেহরান, এমন ধারণাও করা হচ্ছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের মূল্যায়ন অনুযায়ী, সেন্টকম ও ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী হামলার প্রস্তুতি নিলেও নির্বাচনের আগে ইরানের বিরুদ্ধে অভিযান শুরুর নির্দেশ দিতে পারেন না ট্রাম্প।

তবে ইরানের পক্ষ থেকে আকস্মিক হামলার প্রস্তুতির কোনো লক্ষণ পাওয়া গেলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বিভাগও সম্ভাব্য উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রস্তুতি নিয়ে এখন পর্যন্ত স্পষ্ট কোনো অবস্থান জানায়নি। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা সংশ্লিষ্ট মূল্যায়নে বলা হয়েছে, ইরানকে আলোচনায় ফেরার আরেকটি সুযোগ দিতে চাইছে হোয়াইট হাউস। তবে ইরানের অর্থনৈতিক সংকট দিন দিন আরও গভীর হচ্ছে বলে মনে করছেন মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা।

তাদের ধারণা, তেহরান এমন কোনো চুক্তিতে সই করবে না, যার মাধ্যমে পুরোপুরি পারমাণবিক কর্মসূচি পরিত্যাগ করতে হয়। একইভাবে, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন বন্ধের শর্তও মেনে নেওয়ার সম্ভাবনা কম। এসব ক্ষেপণাস্ত্র এখন ইউরোপের জন্যও হুমকি তৈরি করছে বলে দাবি ওয়াশিংটনের। এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক সরঞ্জাম স্থানান্তরের বৃহত্তর বিমান অভিযানের অংশ হিসেবে গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর ১০টি পরিবহন বিমান দক্ষিণ ইসরায়েলের বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করেছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম কান নিউজ এ তথ্য জানিয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  নির্বাচনে আরব দলগুলোর বড় সাফল্যের পর নেতাদের গ্রেফতারের দাবি ইসরাইলি মন্ত্রীর

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিমানগুলো যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ফোর্ট ব্লিস ঘাঁটি থেকে এসেছিল। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা জোরদারে এসব বিমানে বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ও সামরিক সরঞ্জাম ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কান নিউজের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিমান বহরের অন্য কয়েকটি উড়োজাহাজ জর্ডান, কাতার ও সৌদি আরবেও অবতরণ করেছে। এর আগে, ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাতের প্রস্তুতি হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত একটি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা পাঠানোর খবরও প্রকাশিত হয়েছিল।

ইসরায়েলি একটি সূত্র কান নিউজকে জানিয়েছে, ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় চলছে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি আরও বাড়াতে অতিরিক্ত একটি বিমানবাহী রণতরি এবং মেরিন সেনাদের একটি ইউনিট পাঠানোর বিষয়েও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

এর দুই সপ্তাহ আগে ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর কয়েক ডজন যুদ্ধবিমান ইরান সীমান্তের কাছাকাছি পর্যন্ত উড়ে গিয়ে আবার ইসরায়েলে ফিরে আসে। অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে মার্কিন ও ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের বরাতে এ তথ্য জানানো হয়েছিল। তাদের ভাষ্য, এটি ছিল একটি মহড়া।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি। © দৈনিক লালবার্তা কর্তৃপক্ষ
Design & Development BY: BD IT HOST