1. manikbdoot@gmail.com : dailylalbarta : dailylalbarta dailylalbarta
- দৈনিক লালবার্তা

Reporter Name
  • আপডেটের সময়: Thursday, October 22, 2026,
  • 0 সময় দেখুন

দিনে সূর্যের আলো থেকে বিদ্যুৎ তৈরি করা হচ্ছে। আর সেই শক্তিতে রাতে আলোকিত হচ্ছে রাজধানীর উত্তরা ও ভাষানটেকের কয়েকটি সড়ক। দৈনন্দিন সেবায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের এই সফলতায় কর্তৃপক্ষ নগরীতে সৌরবিদ্যুতের সড়কবাতির পরিসর বাড়ানোর চিন্তা করছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) অধীন উত্তরার তিনটি সড়কে স্থাপিত ২৬০টি বাতি আট বছরে প্রায় সাড়ে ৮ লাখ ইউনিট গ্রিড বিদ্যুৎ ব্যবহার বাঁচিয়েছে। ওই বিদ্যুতের আর্থিক মূল্য প্রায় ৯৭ লাখ ৪১ হাজার টাকা। যদিও কাছাকাছি সময়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) সোলার বেইজড সড়কবাতি প্রকল্প গ্রহণ করে ব্যর্থ হয়েছে। কারণ হিসাবে জানা গেছে, সঠিক পরিকল্পনা ও পরিচর্যা না করায় ওই উদ্যোগটি ব্যর্থ হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ডিএনসিসির হিসাবটি সৌরশক্তিকে নগরসেবায় আরও বিস্তৃতভাবে ব্যবহারের সম্ভাবনা সামনে এনেছে। সড়ক আলোকিত রাখার পাশাপাশি বিদ্যুতের প্রচলিত উৎসের ওপর নির্ভরতা কমানো এবং পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো গড়ার ক্ষেত্রেও এ ধরনের উদ্যোগ ভূমিকা রাখতে পারে।

আরও পড়ুনঃ  যেসব খাদ্য ব্যবসায় অবশ্যই থাকতে হবে নিবন্ধন-লাইসেন্স

এ প্রসঙ্গে ডিএনসিসির অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, যেসব সড়ক পর্যাপ্ত সূর্যের আলো পায়, সেসব সড়কে সৌরভিত্তিক (সোলার বেইজড) সড়কবাতি সম্প্রসারণ করলে সফলতা মিলবে। ডিএনসিসির এমন অনেক সড়ক রয়েছে সেসব সড়কে সৌরভিত্তিক সড়কবাতি সম্প্রসারণের চিন্তাভাবনা চলছে।

তিনি বলেন, ঢাকায় ধুলা একটা সমস্যা হলেও সঠিক পরিচর্যায় তার মধ্যেও সৌরভিত্তিক সড়কবাতির ভালো সম্ভাবনা রয়েছে। উত্তরার তিনটি রোডে সফলতা মিলেছে। নতুন করে ভাষানটেকে সৌরবাতি স্থাপন করা হয়েছে। সেখানেও সফলতা পাওয়া গেছে। এ কারণে এর সম্প্রসারণ করার চিন্তাভাবনা করছে কর্তৃপক্ষ। বর্তমান সরকারও সোলারের সম্প্রসারণ দেখতে চায়। এর সুবিধা হলো খরচ কম এবং পরিবেশবান্ধব।

আরও পড়ুনঃ  এনআরবি ব্যাংকে চাকরির সুযোগ

নথির তথ্য অনুযায়ী, উত্তরার শাহজালাল অ্যাভিনিউ, গরীবে নেওয়াজ অ্যাভিনিউ ও গাউসুল আজম অ্যাভিনিউতে ১৩০টি খুঁটিতে মোট ২৬০টি সৌর সড়কবাতি রয়েছে। প্রতিটি বাতির ক্ষমতা ৯০ ওয়াট। প্রতিটির জন্য ২৫০ ওয়াটের সৌর প্যানেল ধরা হয়েছে। সব প্যানেলের মোট স্থাপিত ক্ষমতা ৬৫ কিলোওয়াট।

আরও জানা যায়, জুলাই ২০১৮ থেকে ১৫ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত এসব বাতি প্রতিদিন গড়ে ১২ ঘণ্টা জ্বলেছে ধরে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের হিসাব করা হয়েছে। এছাড়া এ সময়ে ৫২৭ টন কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ কম হয়েছে।

এই সংখ্যাগুলো ডিএনসিসির অনুমানভিত্তিক হিসাব। বাতির সংখ্যা, ক্ষমতা ও দৈনিক ব্যবহারের সময় ধরে তা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর্থিক মূল্য নির্ধারণে ২০২৬ সালের জুনের প্রতি ইউনিট ১১ টাকা ৪৬ পয়সা দর ধরে করা হয়েছে। ফলে ৯৭ লাখ টাকা হচ্ছে ওই দর অনুযায়ী গ্রিড বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের আনুমানিক মূল্য।

আরও পড়ুনঃ  আগের নিয়মেই সরকারি কর্মচারীদের ভাতা, প্রজ্ঞাপন জারি

সরেজমিন দেখা গেছে, উত্তরার উল্লেখিত তিনটি সড়ক সৌরবিদ্যুতে আলোকিত রয়েছে। সাধারণ সড়কবাতি, এলইডি সড়কবাতির চেয়ে কোনো অংশে কম নয় এই আলো। ডিএনসিসির সংশ্লিষ্টরা জানান, এই সাফল্য থেকে বোঝা যায় ঢাকায় সোলার বেইজড সড়কবাতি পরিচালনা সম্ভব। বিশেষ করে যেসব সড়কে পর্যাপ্ত সূর্যের আলো মিলবে।

এদিকে উত্তরায় সফলতা পাওয়ার পর ভাষানটেকে সৌরভিত্তিক সড়কবাতি স্থাপন করেছে ডিএনসিসি। চলতি বছরের ১৯ এপ্রিল ভাষানটেক বস্তিতে ৪৫০টি সৌরবিদ্যুৎচালিত এলইডি সড়কবাতি উদ্বোধন করে ডিএনসিসি। সরু রাস্তা ও গলিতে রাতে চলাচল সহজ করা এবং নাগরিক নিরাপত্তা বাড়ানো এই উদ্যোগের লক্ষ্য। এতে প্রায় দেড় লাখ বাসিন্দা উপকৃত হবেন।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি। © দৈনিক লালবার্তা কর্তৃপক্ষ
Design & Development BY: BD IT HOST