1. manikbdoot@gmail.com : dailylalbarta : dailylalbarta dailylalbarta
‘আমারে একটা বড় শয়তানে ধরছে’ - দৈনিক লালবার্তা

‘আমারে একটা বড় শয়তানে ধরছে’

Reporter Name
  • আপডেটের সময়: Thursday, October 29, 2026,
  • 3 সময় দেখুন

ইসলামী আলোচক জুবায়ের আহমাদ তাশরীফের বিরুদ্ধে কথা বলে অনুতপ্ত হয়েছেন তার বাবা মাওলানা মো. হেদায়েতুল্লাহ। নিজের রাগের বশে এবং কিছু মানুষের প্ররোচনায় পড়ে ছেলের বিরুদ্ধে কথা বলার বিষয়টি ভুল ছিল বলে স্বীকার করেছেন তিনি।

এ ঘটনায় দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি ছেলের ভবিষ্যৎ সাফল্য ও উন্নতি কামনা করেছেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে ছেলের বিরুদ্ধে আর কোনো কথা বলবেন না বলেও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাত ১২টার দিকে নিজের ফেসবুক পেজে বাবাকে পাশে নিয়ে একটি দীর্ঘ ভিডিওবার্তা প্রকাশ করেন তাশরীফ। সেখানে নিজের ভুল স্বীকার করে অনুতাপ প্রকাশ করতে দেখা যায় তার বাবা মাওলানা মো. হেদায়েতুল্লাহকে। ভিডিওতে তিনি বলেন, ‘আমারে একটা বড় শয়তানে ধরেছে।’

মাওলানা মো. হেদায়েতুল্লাহ বলেন, ‘আমি কেন ভিডিওতে গেলাম? আসলে তো আমারে ধরছে একটা বিরাট বড় শয়তানে। দেশবাসীর কাছেও আমি ক্ষমাপ্রার্থী। আমার জীবনে যে ভুল করছি ভিডিওতে আইসা। আর আমি এই ভুল আর বাকি জীবনে যেন আমার না হয়। আমি করবো না, করতে চাই না। বেশি রাগের কারণে আজকে আমার অধঃপতন।’

তিনি আরও বলেন, পরিবারে রাগ-গোস্বা হতেই পারে। কিন্তু তার অতিরিক্ত রাগের কারণেই পরিস্থিতি এত দূর গড়িয়েছে। ভিডিওতে না এলে ঘটনা এত দূর গড়াত না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। কিছু মানুষ তাকে প্রলোভন দেখিয়েছেন উল্লেখ করে তাদের নাম প্রকাশ করতে চাননি তাশরীফের বাবা।

আরও পড়ুনঃ  সুরা আ’লাতে মানুষের জন্য যে শিক্ষা রয়েছে

হেদায়েতুল্লাহ বলেন, আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন; কিন্তু তিনি ধৈর্য ধরতে পারেননি। আল্লাহর নির্দেশ মেনে চললে এবং তাকে দেওয়া ইলম অনুযায়ী কাজ করলে জীবনে আরও উন্নতি হতো বলে মনে করেন তিনি। কিছু মানুষের প্রলোভনে পড়ে ভিডিওতে এসে ‘মহাঅন্যায়’ করেছেন বলেও স্বীকার করেন।

ছেলের প্রশংসা করে তিনি বলেন, আল্লাহ তাকে এমন এক সন্তান দিয়েছেন, যার চেহারা, কণ্ঠ, কথা বলা ও আচার-আচরণে বিশেষ নেয়ামত রয়েছে। কিন্তু তিনি ছেলের মূল্য বুঝতে পারেননি। এজন্য নিজের ব্যর্থতার কথাও স্বীকার করেন তিনি।

তাশরীফের বাবা জানান, তার স্ত্রী ছেলের বিষয়ে তাকে বুঝিয়েছেন। তিনি বলেন, স্ত্রী তাকে মনে করিয়ে দিয়েছেন, ছেলে আজ পাশে না থাকলেও পাঁচ বছর পর হলেও বিপদের সময় বাবার পাশে দাঁড়াবে। এ কথা শুনে নিজের ভুল বুঝতে পেরেছেন তিনি।

হেদায়েতুল্লাহ বলেন, ‘তার এই কথা শুনে আমার টনক নড়ে গেছে। যে কিনা তার উদরের সন্তান না, তাকে নিয়ে সে কত ভাবছে। অথচ আমার ঔরসে জন্ম নেওয়া সন্তান সম্পর্কে আমি কত কী বলে ফেলেছি! তাহলে আমি কোথায়, আর সে কোথায়!’

আরও পড়ুনঃ  নিজের প্রতি জুলুম— যে ১২টি গুনাহে নিজেরাই নিজেদের ক্ষতি করি

নিজের ভুল উপলব্ধি করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তাই ভাবলাম, টাকা বড় কথা না। আমি দোয়া করি, আমার ছেলে যেন আরও বড় হয়।’

দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চেয়ে তাশরীফের বাবা বলেন, আল্লাহ তাকে নেক সন্তান দান করা সত্ত্বেও শয়তানের চক্করে পড়ে তিনি ভুল করেছেন। ভবিষ্যতে যেন আর কখনো সন্তানের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের কথা না বলেন, সে জন্য আল্লাহর কাছে তাওফিক চান তিনি।

একই ভিডিওতে তাশরীফ বলেন, তাদের পারিবারিক রাগ-অভিমান ও মনোমালিন্য নিয়ে অনেকে দেশে বড় একটি ইস্যু তৈরি করেছেন। তবে তারা এসব বিষয় পারিবারিকভাবেই সমাধান করতে চান। তার বাবা স্বেচ্ছায় তার কাছে এসেছেন এবং তিনিও বাবার কাছে ক্ষমা চেয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, ‘পরিবারে কখনো রাগ-অভিমান, কখনো আদর-ভালোবাসা, এসব হয়েই থাকে। আমরা সেগুলো পারিবারিকভাবেই সমাধান করতে চাই সবসময়। আমার বাবা আজকে স্বেচ্ছায় এসেছেন আমার কাছে। আমি আমার বাবার কাছে ক্ষমা চেয়েছি, আশা করি তিনি আমাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। আমরা পরস্পর মিলে থাকতে চাই। আশা করি, এসব নিয়ে আর কেউ প্রোপাগান্ডা ছড়াবেন না।’

আরও পড়ুনঃ  মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে: শিক্ষামন্ত্রী

তাশরীফ বলেছেন, বাবার প্রতি তার কোনো অভিযোগ নেই। বাবারও তার প্রতি কোনো অভিযোগ থাকবে না বলে আশা করেন তিনি। অতীতের ঘটনা পেছনে ফেলে সামনের জীবন সুন্দর করতে চান তারা। দেশের মানুষের সামনে নিজেদের সুন্দর সম্পর্ক তুলে ধরতে চান বলেও জানান তাশরীফ।

তাশরীফ বলেন, আল্লাহর ইবাদতের পর পিতামাতার খেদমত করা সন্তানের দায়িত্ব। আর্থিক, শারীরিক ও সামাজিকভাবে যেভাবেই সম্ভব, তিনি বাবা-মায়ের সেবা করতে চান। তবে তাদের ঘরের আশপাশে থাকা কিছু শত্রু একসঙ্গে মিলেমিশে থাকতে দিতে চায় না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

গত কুরবানির ঈদের সময় পারিবারিক বিরোধ ও মনোমালিন্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে তাশরীফ বলেন, এখন থেকে মাস বা নির্দিষ্ট অঙ্কের হিসাব করে নয়, যখন যে পরিমাণ টাকা প্রয়োজন হবে, তিনি তা দিতে চান। প্রয়োজন ১০ হাজার টাকা হোক কিংবা ১০ লাখ টাকা- বাবাকে সহযোগিতা করতে চান তিনি।

তাশরীফ বলেন, বাবার জন্য নির্দিষ্ট মাস বা টাকার পরিমাণ ঠিক করে দেওয়া নয়; প্রকৃত সন্তানের আচরণ এমন হওয়া উচিত, প্রয়োজনে বাবার জন্য জীবনও দিতে হতে পারে।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি। © দৈনিক লালবার্তা কর্তৃপক্ষ
Design & Development BY: BD IT HOST