
রংপুরের ইতিহাস লেখক, গবেষক, সংগ্রাহক ও সাবেক ছাত্রনেতা শাহ্ রিয়াদ আনোয়ার শুভর দাফন সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) বাদ জোহর রংপুর কেরামতিয়া জামে মসজিদ প্রাঙ্গণ মাঠে জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।
এতে শুভর সহপাঠী, রাজপথের সহযোদ্ধা, বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক, পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ শুভাকাঙ্খীরা অংশ নেন।
জানাজা শেষে পুস্পার্ঘ্য অর্পণ করে রিয়াদ আনোয়ার শুভর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে বাংলাদেশ জাসদসহ বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন। এরপর নগরীর মুন্সিপাড়ায় কেন্দ্রীয় সিটি করপোরেশন কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
এর আগে মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে নগরীর সার্কিট হাউস সংলগ্ন নিজ বাসভবনে শাহ রিয়াদ আনোয়ার শুভর মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৩ বছর। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ফুসফুসের জটিল রোগে ভুগছিলেন। মৃত্যুর সময় তিনি দুই ভাই-বোনসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
শাহ্ রিয়াদ আনোয়ার শুভ ১৯৭৩ সালের ২৫ নভেম্বর রংপুরের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা অ্যাডভোকেট শাহ্ আনোয়ারুল হক আনু ছিলেন ভাষাসৈনিক ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক এবং মা উম্মে হাবিবা জাকিয়া হক সাবেক জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা।
তিনি ১৯৮৮ সালে রংপুর জিলা স্কুল থেকে এসএসসি, ১৯৯০ সালে রংপুর কারমাইকেল কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করার পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করেন। ছাত্রজীবনে প্রগতিশীল ছাত্রসংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ (জাসদ) এর সাথে রাজনীতি করতেন। রাজপথের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামে তার ভূমিকা ছিল।
শাহ্ রিয়াদ আনোয়ার শুভ রংপুরের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লেখা-লেখিতে একজন নিবেদিত প্রাণ ছিলেন। তার লেখার মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম রংপুরের পুরাতন বাড়ি, সড়ক, ভবনসহ নানা ইতিহাস-ঐতিহ্য সম্পর্কে জানতে পেরেছে। তিনি ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ থেকে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ‘রণভূমির রংপুর’ শিরোনামে একটি বই লিখে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন। তিনি রংপুরের ইতিহাস-ঐতিহ্য নিয়ে লেখালেখির পাশাপাশি এসবের সংগ্রাহক, সংরক্ষক ও গবেষকও ছিলেন।
তার মৃত্যুতে রংপুরের সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক, পেশাজীবী, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনসহ সর্বস্তরের মানুষের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।