1. manikbdoot@gmail.com : dailylalbarta : dailylalbarta dailylalbarta
মিডটার্ম নির্বাচনে বড় ধাক্কা ট্রাম্পের, কেন মুখ পুড়ল মার্কিন প্রেসিডেন্টের? ভারতে এর কী প্রভাব পড়তে চলেছে জানেন! - দৈনিক লালবার্তা
শিরোনামঃ
৬ শৈত্যপ্রবাহের পূর্বাভাস যে কারণে ইকবাল সোবহানকে আটক করা হলো মিডটার্ম নির্বাচনে বড় ধাক্কা ট্রাম্পের, কেন মুখ পুড়ল মার্কিন প্রেসিডেন্টের? ভারতে এর কী প্রভাব পড়তে চলেছে জানেন! এই আন্দোলন শ্রমিকদের নয়, পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে ইন্ধন দেওয়া হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সিরাজগঞ্জ ও পাবনায় এসআরবির অভিযান; বিপুল অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ছয়জনের মৃত্যু আমেরিকার ইতিহাসে প্রথমবার! গভর্নর হলেন কৃষ্ণাঙ্গ মহিলা প্রমিলা জয়পাল থেকে রো খান্না, মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভারতীয় বংশোদ্ভূতরা কে কেমন ফল করলেন? সংবিধান গৃহীত হওয়ার ৫৪ বছর আজ পরীমনির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি

মিডটার্ম নির্বাচনে বড় ধাক্কা ট্রাম্পের, কেন মুখ পুড়ল মার্কিন প্রেসিডেন্টের? ভারতে এর কী প্রভাব পড়তে চলেছে জানেন!

Reporter Name
  • আপডেটের সময়: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬
  • ৮ সময় দেখুন

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধপরবর্তী ইতিহাসে অন্যতম অনিশ্চিত ও বিশৃঙ্খল মার্কিন প্রেসিডেন্সিয়াল মেয়াদের দু’বছর পার হওয়ার পর, বড় ধরনের ধাক্কার মুখে পড়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন সিনেট ও হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভ- উভয় কক্ষেই রিপাবলিকান পার্টি পরাজয়ের সম্মুখীন।

ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের ওপর এক ধরনের গণভোট হিসেবে বিবেচিত এই মিডটার্ম নির্বাচন তাঁর করা বিভিন্ন পদক্ষেপের বিরুদ্ধে একটি জোরালো বার্তা বলেই মনে করা হচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্ক, অভিবাসন নীতি-সহ একাধিত পদক্ষেপ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-সহ ভারত-সহ পুরো বিশ্বকেই প্রভাবিত করেছিল।

যদিও ভোট গণনা এখনও চলছে এবং চূড়ান্ত ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হতে আরও কয়েক দিন সময় লাগবে, তবে এটা বলাই যায় যে- ট্রাম্পের দুই বছরের শাসনের পর আমেরিকা এখন তার যাত্রাপথে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের শুরুতে ‘নিউ ইয়র্ক টাইমস’-কে ট্রাম্প বলেছিলেন যে, “আমি এই ফলাফল মেনে নিতে পুরোপুরি প্রস্তুত।” কিন্তু পরবর্তীতে, তিনি তাঁর ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ প্ল্যাটফর্মে একটি লাল টুপির ছবি পোস্ট করেন, যাতে বড় করে লেখা ছিল “ভেটো”। এমনকি ফক্স নিউজকে তিনি জানান যে, অভিবাসনের মতো বিষয়গুলোতে তিনি ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করতে রাজি আছেন, তবে তাদের পাস করা যেকোনও “অযৌক্তিক” বিলের ক্ষেত্রে তিনি ভেটো প্রয়োগের হুমকি দিয়েছেন।

অবশ্য, এটি ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারির পরিস্থিতির চেয়ে অনেকটাই আলাদা। সেই সময়ে, ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী জো বাইডেনের কাছে নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পর তিনি তাঁর সমর্থকদের মার্কিন ক্যাপিটলে হামলা চালানোর জন্য উসকে দিয়েছিলেন।

মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের মূল বিষয়গুলো নীচে তুলে ধরা হল:

প্রথমত, ২০২০ সালের পর ট্রাম্প এবারই সবচেয়ে বড় পরাজয়ের মুখোমুখি হয়েছেন। সেবার তিনি নির্বাচনে হেরে গেলেও আমেরিকার একটি বড় অংশ তাঁকে এমন একজন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেখেছিল, যিনি তাঁর সমর্থকদের কথা ভাবেন। এবার তিনি এমন সব অঙ্গরাজ্যে হেরেছেন, যেগুলো সাধারণত ‘রেড স্টেট’ বা রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। এর অর্থ হল, ওই অঙ্গরাজ্যগুলোতেও তিনি তাঁর সমর্থকদের বড় অংশকে হারিয়েছেন।

দ্বিতীয়ত, ২০২৪ সালে ট্রাম্প এমন কিছু এলাকায় সমর্থন পেয়েছেন, যেখানে সাধারণত ডেমোক্র্যাটদের জয়জয়কার থাকে। এর মধ্যে রয়েছে আফ্রিকান আমেরিকান, হিস্পানিক এবং ভারতীয় বংশোদ্ভূত আমেরিকান সম্প্রদায়। এদের প্রধান ক্ষোভ ছিল জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে। বিশেষ করে ডিমের দাম বৃদ্ধি ট্রাম্পের জনসমর্থনের ভিত অনেকটাই নড়িয়ে দিয়েছে।

তৃতীয়ত, রিপাবলিকানদের দুর্গ বলে পরিচিত আসনগুলো এবং ভোটারদের সমর্থন হারানোর মূল কারণ হল জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং মানুষের ক্রয়ক্ষমতার ওপর তার নেতিবাচক প্রভাব। আম মার্কিনি (তিনি রিপাবলিকান, ডেমোক্র্যাট বা কোনও পক্ষেরই না) সবাই পেট্রোল, ডিজেল ও গ্যাসের ক্রমবর্ধমান মূল্যের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বিশেষ করে মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলীয় (মিডওয়েস্টার্ন) গ্রামীণ রাজ্যগুলোতে এই সংকট ছিল তীব্র। সেখানকার মানুষ সাধারণত বেশি জ্বালানি খরচ করা গাড়ি ব্যবহার করেন এবং বাজার, হাসপাতাল, স্কুল বা অন্যান্য প্রয়োজনে যাতায়াতের জন্য তাদের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়। তারা এই আর্থিক চাপের তীব্রতা অনুভব করেছেন। এর কারণ ছিল পশ্চিম এশিয়ায় (মধ্যপ্রাচ্যে) ফেব্রুয়ারি মাসে ইরানকে নিশানা করে আমেরিকা ও ইজরায়েলের শুরু করা যুদ্ধ। কারণ এই যুদ্ধের জেরে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় তা আম মার্কিনির পকেটে প্রভাব ফেলেছে।

আরও পড়ুনঃ  চিফ হুইপের সঙ্গে ইইউ রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

চতুর্থত, পশ্চিম এশিয়ায়- যাকে আমেরিকানরা ‘মধ্যপ্রাচ্য’ বলে অভিহিত করে- এই যুদ্ধ ‘মাগা’ (MAGA – ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’) সমর্থক রিপাবলিকানদের হতবাক ও বিস্মিত করেছে। কারণ, প্রার্থী হিসেবে ট্রাম্প প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে তিনি এই “অন্তহীন যুদ্ধ”-এর অবসান ঘটাবেন। প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর, তিনি কোনও রকম ভালোমন্দ বিচার-বিশ্লেষণ ছাড়াই এই সংঘাতের মধ্যে জড়িয়ে পড়েন। এর ফলে আট মাস ধরে যুদ্ধ চলল, হরমুজ প্রণালী একটি সংকীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ পথে পরিণত হল এবং জ্বালানির দাম বেড়ে গেল। এটি ছিল তাঁর কল্পনার সম্পূর্ণ বিপরীত এক পরিস্থিতি। আর এই অভিজ্ঞতায় তাঁর ভোটাররা অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন।

পঞ্চমত, মার্কিন প্রেসিডেন্টকে একজন দুর্নীতিপরায়ণ ব্যক্তি হিসেবে দেখা গিয়েছে, যিনি নিজের, পরিবারের সদস্যদের এবং বন্ধুদের ব্যবসায়িক স্বার্থ কাজে লাগিয়ে অর্থ উপার্জনে আগ্রহী ছিলেন। ক্রিপ্টোকারেন্সি সংক্রান্ত চুক্তি হোক, উপসাগরীয় অঞ্চলে কোনও ব্যবসায়িক লেনদেন হোক, পাকিস্তানে খনিজ সম্পদ নিয়ে চুক্তি হোক, কিংবা বড় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের হয়ে প্রভাব বিস্তার ও লবিং করা- সবকিছুই প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত সম্পদ বৃদ্ধির সুযোগ করে দিয়েছে। কেবল প্রথম বছরেই তাঁর ব্যক্তিগত সম্পদ ২.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বেড়েছে, যা প্রতিদিন গড়ে ৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমান। কোনও ক্ষমতাসীন মার্কিন প্রেসিডেন্টের ক্ষেত্রে এমন নজিরবিহীন। এর জেরে ভোটাররা তাঁকে ক্ষমা করেননি।

ষষ্ঠত, অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের কঠোর পদক্ষেপ আমেরিকান সমাজের মূল কাঠামোকেই ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। আমেরিকান সমাজ মূলত হিস্পানিক, আফ্রিকান-আমেরিকান, এশীয় এবং অবশ্যই ভারতীয়স-হ বিভিন্ন অভিবাসী সম্প্রদায়ের এক সমন্বিত রূপ। তার এই নীতি রিপাবলিকানদের মূল সমর্থক গোষ্ঠীর মধ্যেও ভালভাবে গৃহীত হয়নি। আইসিই বিরোধী অভিযান (যাকে তিনি নতুন নাম দিয়েছিলেন ‘নাইস’ অভিযান) উল্টো ফল বয়ে আনে। কারণ এর আওতায় বাড়িঘর ও স্কুল থেকে নারী ও শিশুদের তুলে নিয়ে এমন সব দেশে নির্বাসিত করা হয়, যেগুলোর সঙ্গে তাদের কোনও সম্পর্কই ছিল না।

সপ্তমত, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ওপর শুল্ক আরোপ করার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যে নির্বাহী ক্ষমতা ব্যবহার করেছিলেন, তা জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দিয়েছিল। কারণ এই শুল্ক কার্যত তাঁর নিজের দেশের নাগরিকদের ওপরই এক ধরনের কর হিসেবে কাজ করেছিল। এটি ছিল তাঁর নিজের নেওয়া আরেকটি ভুল পদক্ষেপ, যার ফলে চীন থেকে কানাডা, ভারত থেকে মেক্সিকো- এমন দূর-দূরান্তের দেশগুলো থেকে আমেরিকার আমদানিকৃত সব ধরনের পণ্যের দাম বেড়ে গিয়েছে।

অষ্টমত, বিচার বিভাগ থেকে শুরু করে মার্কিন কংগ্রেস পর্যন্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ওপর ট্রাম্পের আধিপত্য বিস্তারের প্রচেষ্টাকে আমেরিকানরা ভালভাবে নেয়নি। মার্কিন শাসনব্যবস্থা দীর্ঘকাল ধরে নির্বাহী ক্ষমতার ওপর নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্য বজায় রাখার ভিত্তি করে টিকে আছে। এই সুরক্ষাকবচগুলো দুর্বল হয়ে পড়ায় তা সাধারণ আমেরিকানদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ায়।

নবমত, জেফ্রি এপস্টেইনের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট-এর সম্পর্ক অনেককে ক্ষুব্ধ করেছিল। যদিও অতীতেও তাঁকে বিতর্কিত ব্যক্তিদের সঙ্গে দেখা গিয়েছে এবং তিনি আগেও অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ ভাষা ব্যবহার করেছেন, তবুও এপস্টেইন নথিপত্রে থাকা ছবিগুলো যে নৈতিক অবক্ষয়ের ইঙ্গিত দেয়, তা মধ্যবিত্ত আমেরিকানদের ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছিল।

আরও পড়ুনঃ  স্বজনহীন তরুণের বিয়েতে অচেনাদের ঢল, গাড়ি বহরের সঙ্গে এল বিশাল বরযাত্রী

দশমত, বিপুল সংখ্যক ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্যের জয় দলের ভেতরে নতুন নেতাদের উঠে আসার পথ প্রশস্ত করবে। উল্লেখ্য, এবারের প্রচারে ডেমোক্র্যাটদের প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সহায়তা নিতে হয়েছিল। এখন দলটিতে নতুন এক প্রজন্মের নেতা তৈরি হবে, যারা ২০২৮ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে শামিল হতে পারেন।

তাহলে, মিডটার্ম নির্বাচনের ফলাফল ট্রাম্প, বিশ্ব এবং ভারতের জন্য কী অর্থ বহন করে?

এখানে অনেক কিছু নজরে রাখার মতো রয়েছে।

বিদেশনীতিতে মোড়

ঐতিহ্যগতভাবে, কংগ্রেসের বিরোধী দলের চাপে থাকা মার্কিন প্রেসিডেন্টরা প্রায়শই বিদেশনীতির দিকে ঝুঁকে পড়েন। এটি ট্রাম্পের এমন এক রূপকে সামনে নিয়ে আসতে পারে, যিনি পশ্চিম এশিয়ায় তাঁর দুঃসাহসী কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে ইতিমধ্যেই বেপরোয়া মনোভাব দেখিয়েছেন।

মার্কিন কংগ্রেসের উভয় কক্ষ- (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস এবং সিনেট) যদি ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণে থাকে, তবে যুদ্ধের অর্থায়ন বন্ধ করার মাধ্যমে ট্রাম্পের ক্ষমতাকে সীমাবদ্ধ করা সম্ভব হতে পারে। তবে, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্টের হাতে এমন নির্বাহী ক্ষমতা থাকে, যার বলে তিনি আগে থেকেই বরাদ্দকৃত বাজেট ব্যবহার করে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারেন।

অর্থনৈতিক প্রভাব এবং সন্দেহজনক লেনদেন নিয়ে তদন্ত

যদি যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হয় এবং জ্বালানির দাম উচ্চ পর্যায়ে থাকে বা আরও বেড়ে যায়, তবে ভারত ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কারণ এটি ভারতের অর্থনৈতিক বৃদ্ধিকে বাধা দেবে।

অনেক ডেমোক্র্যাটের কাছে, মার্কিন কংগ্রেসে ক্ষমতার পটপরিবর্তন মানেই হল ট্রাম্প এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ পুঁজিপতি বন্ধু ও পরিবারের বিরুদ্ধে আরও বেশি তদন্ত ও শুনানির সূচনা হওয়া। এর ফলে গত কয়েক বছরের ক্রিপ্টো লেনদেন, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ সংক্রান্ত চুক্তি, হোটেল ব্যবসা এবং ‘ট্রাম্প টাওয়ার’ সংক্রান্ত বিভিন্ন চুক্তির বিষয়ে তদন্তের পথ প্রশস্ত হতে পারে।

এই তদন্তের জালে যেমন পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী জড়িয়ে পড়তে পারে, তেমনি ভারতের যেসব ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ট্রাম্প পরিবার ও তাঁর ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে লেনদেন করেছে এবং যাদের প্রতি ট্রাম্প প্রশাসন ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছিল সেগুলোও এই তদন্তের আওতায় চলে আসতে পারে।

শুল্ক আরোপের ক্ষমতা ও তার ফলাফল

ট্রাম্প যে শুল্ক আরোপের ক্ষমতা নিজের হাতে কুক্ষিগত করেছেন (যা মার্কিন কংগ্রেস গত কয়েক মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে অর্পণ করেছিল) তা ভারত, চীন-সহ পুরো বিশ্বেরই গভীর পর্যবেক্ষণের বিষয় হয়ে থাকবে। যেহেতু শুল্ক ও বাণিজ্য যুদ্ধের এই যুগ বিশ্ব অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ও পূর্বাভাসের পরিবেশকে ব্যাহত করেছে, তাই দিল্লি এবং বিশ্বের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ রাজধানীগুলো এই পরিস্থিতির দিকে সতর্ক নজর রাখবে।

ভারত সরকার মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা দীর্ঘায়িত করে চলেছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল এক্ষেত্রে প্রভাব ফেলবে, কারণ এর ফলে ওয়াশিংটনকে তুলনামূলক দুর্বল অবস্থানে দেখা যেতে পারে।

অভিবাসন-বিরোধী কঠোর পদক্ষেপ, এইচ-১বি ভিসা

গত দুই বছরে অভিবাসী-বিরোধী বর্ণবাদ ও বিধিনিষেধের প্রবণতা বেড়েছে। অভিবাসন-বিরোধী কঠোর পদক্ষেপের বিরুদ্ধে যে প্রতিরোধ গড়ে উঠেছে, তা মার্কিন প্রশাসনকে মনে করিয়ে দেবে যে, অভিবাসী সম্প্রদায় এবং বড় বড় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের হাতে যথেষ্ট প্রভাব বা ‘ভেটো ক্ষমতা’ রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  প্রমিলা জয়পাল থেকে রো খান্না, মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভারতীয় বংশোদ্ভূতরা কে কেমন ফল করলেন?

এইচ-১বি ভিসা, শিক্ষার্থী ভিসা ও ওপিটি-এর ওপর বিধিনিষেধ এবং মানুষের চলাচলের ওপর আরোপিত অন্যান্য কড়াকড়ি- এসব বিষয় ভারত-সহ পুরো বিশ্বের জন্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মার্কিন কংগ্রেস এবং বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের নির্বাচনে আফ্রিকান-আমেরিকান ও ভারতীয়-আমেরিকানদের জয়লাভের প্রেক্ষাপটে, এই বিষয়গুলো আগামী দিনে আরও বেশি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে।

চীন ও রাশিয়ার প্রতি ট্রাম্পের দৃষ্টিভঙ্গি

পশ্চিম এশিয়ায় চলমান যুদ্ধ আলোচনার মূল মনোযোগ কেড়ে নিলেও, ভারত-সহ বিশ্বের অনেক দেশের কাছে আগামী দুই বছরে চীন ও রাশিয়ার প্রতি ট্রাম্পের দৃষ্টিভঙ্গিই হবে ভূ-রাজনৈতিক আলোচনার প্রধান বিষয়। চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্ক, কৌশল এবং দৃষ্টিভঙ্গি বিশ্ব ও ভারতের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হবে।

চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে কোনও ধরনের সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করা হলে, তা ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের অংশীদার ও মিত্র দেশগুলোর ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ওপর গুরুত্ব

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত ক্ষেত্র, যেখানে মার্কিন নীতি কেমন হয়, তা পুরো বিশ্ব পর্যবেক্ষণ করবে। ট্রাম্প প্রশাসন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সেমিকন্ডাক্টরের ব্যবহার ও নিয়ন্ত্রণ এবং ডেটা সেন্টার গড়ে তোলার মতো বিষয়গুলো। যেসব এলাকায় এই ডেটা সেন্টারগুলোর ঘাঁটি করা হচ্ছে, সেখান থেকে কিছু আপত্তি বা বিরোধিতা উঠে এসেছে। মার্কিন প্রশাসন এই চ্যালেঞ্জের মোকাবিলায় কী পদক্ষেপ করে, তা দেখার বিষয়। এছাড়া, চীনের ক্ষেত্রে প্রযুক্তির প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিও সবার নজর কাড়বে। কারণ বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ওপর চীনের রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত আধিপত্যকে অনেকেই মেনে নিতে চাইবেন না।

ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেসে ভারতের মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যালোচনার মুখে

মার্কিন কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণ থাকায়, ভারতের মানবাধিকার পরিস্থিতি (যেমন ধর্মীয় স্বাধীনতার অবস্থা, ভোটার নথিভুক্তকরণ প্রক্রিয়া এবং সংখ্যালঘুদের প্রতি আচরণ) নিয়ে মার্কিন রাজনৈতিক মহলে ভারতের ওপর কঠোর নজরদারি থাকবে। এটি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন ভারত সরকারের জন্য একটি রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। কারণ, ডেমোক্র্যাট দলীয় কংগ্রেস সদস্যরা- যাঁরা ইতিমধ্যে শিক্ষার্থী, বিরোধী দল এবং সুশীল সমাজের প্রতি সরকারের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন- তাদের সঙ্গে মোদি সরকারকে বোঝাপড়া করতে হবে।

পরবর্তী প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থীদের খোঁজার সময়

২০২৮ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার দৌড় আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়ে গিয়েছে। মধ্যবর্তী নির্বাচন শেষ হওয়ার পর, রিপাবলিকান শিবিরে ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স এবং বিদেশ সচিব মার্কো রুবিওর দিকে সবার নজর থাকবে। আগামী দু’বছরে তাঁদের- ট্রাম্পের প্রভাব থেকে নিজেদের কিছুটা দূরে সরিয়ে নিতে হবে, যাতে ট্রাম্পের সঙ্গে যুক্ত বিতর্ক বা ‘বোঝা’ ছাড়াই তাঁরা নির্বাচনী লড়াইয়ে নামতে পারেন।

অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাট শিবিরে প্রথাগত বা প্রতিষ্ঠিত প্রার্থীদের পাশাপাশি অনেক নতুন নাম উঠে আসবে, যা সবার মনোযোগ আকর্ষণ করবে।

ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য অঞ্চলে থাকা আটটি কনস্যুলেটে কর্মরত ভারতীয় প্রতিনিধি দলের জন্য আগামী দুই বছর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, তাঁদের সামনে এখন বড় ধরনের দায়িত্ব রয়েছে।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি। © দৈনিক লালবার্তা কর্তৃপক্ষ
Design & Development BY: BD IT HOST