
বিশেষ প্রতিবেদকঃ
ফেসবুক কিংবা টিকটকে পুলিশের পোশাক পরা এক নারীর ছবি বা ভিডিও দেখে যে কারও মনে হতে পারে তিনি একজন আইনের সেবক। কিন্তু এই খাকি পোশাকের আড়ালেই লুকিয়ে আছে এক ভয়ংকর রূপ। প্রেমের অভিনয়, ভুয়া কাবিননামা আর ব্লাকমেইলের মাধ্যমে দেশ-বিদেশে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়াই যার মূল পেশা।
বলছি কক্সবাজারের রামু উপজেলার ফতেখারকুল ইউনিয়নের উত্তর শ্রীকুল (৫ নম্বর ওয়ার্ড) এলাকার মৃত শাইরা চোরার মেয়ে ইসমতারা মনি ওরফে ‘কালা পুতুনি’র (৩৫) কথা। মা খুরশিদা বেগমের এই কন্যা বর্তমানে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাঙ্গামাটি, এই তিন জেলাকে কেন্দ্র করে তার অপরাধের সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছে। তার এই সুসংগঠিত প্রতারণা চক্রে সহযোগী হিসেবে রয়েছে তার মেঝ বোন সেলিনা, উর্মি এবং রাতুল নামের এক যুবক।ইসমতারার মূল টার্গেট প্রবাসী বা বিদেশী যুবকেরা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রথমে পরিচয়, তারপর নিখুঁত অভিনয়ের মাধ্যমে গড়ে তোলে প্রেমের সম্পর্ক। সম্পর্কের গভীরতা বোঝাতে এমন আচরণ করে যেন সে ওই ছেলের প্রতি সম্পূর্ণ নিবেদিতপ্রাণ এবং ঘরের বউয়ের মতোই যত্নশীল।
একপর্যায়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ভুয়া কাবিননামা তৈরি করে সে। এরপরই শুরু হয় আসল খেলা। কখনো পারিবারিক সমস্যা, কখনো ব্যবসার কথা বলে ধাপে ধাপে হাতিয়ে নেয় লাখ লাখ টাকা।
ভীতি প্রদর্শন ও ব্ল্যাকমেইল, কোনো ভুক্তভোগী পুরুষ যদি একপর্যায়ে তার প্রতারণা বুঝতে পেরে দূরত্ব বজায় রাখতে চায় বা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানায়, তখনই বেরিয়ে আসে ইসমতারার আসল রূপ। টিকটক বা ফেসবুকে আপলোড করা পুলিশের পোশাক পরা ছবি ও প্রভাব খাটিয়ে সে ভুক্তভোগীদের নামে মামলা বা আইনি হয়রানির ভয় দেখায়। লোকলজ্জা আর আইনি ঝামেলার ভয়ে অনেক ছেলেই বাধ্য হয়ে তার দাবি করা মোটা অঙ্কের টাকা পরিশোধ করে নিঃস্ব হয়েছেন।
আইন চোখ বুজে থাকে না। ক্রমাগত প্রতারণার শিকার হয়ে অবশেষে এক ভুক্তভোগী আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। বর্তমানে ইসমতারা মনির বিরুদ্ধে আদালতে প্রতারণার মামলা রয়েছে, যার নম্বর CR 690/24(R)। দণ্ডবিধির ৪০৬ (বিশ্বাসভঙ্গ), ৪২০ (প্রতারণা) এবং ৫০৬(২) (ক্রিমিনাল ইনটিমিডেশন বা ভয়ভীতি প্রদর্শন) ধারায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা (ওয়ারেন্ট) জারি করেছেন আদালত।
বর্তমানে এই চক্রের প্রধান ইসমতারা ঢাকায় আত্মগোপন করে আছে বলে জানা গেছে।
এই ভয়ংকর নারী প্রতারককে আইনের আওতায় আনতে এবং সাধারণ মানুষকে তার হাত থেকে রক্ষা করতে ভুক্তভোগী ও সচেতন মহলের পক্ষ থেকে বিশেষ ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। কোনো সহৃদয় ব্যক্তি যদি এই প্রতারক ইসমতারা মনির সঠিক সন্ধান দিতে পারেন বা তাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরিয়ে দিতে সহযোগিতা করেন, তবে তাকে ৫০,০০০ (পঞ্চাশ হাজার) টাকা নগদ পুরস্কার দেওয়া হবে।
প্রতারক চক্রের হাত থেকে বাঁচতে এবং সমাজকে কলঙ্কমুক্ত করতে তার সন্ধান জানা থাকলে অনতিবিলম্বে নিকটস্থ থানা পুলিশকে অবহিত করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।