1. manikbdoot@gmail.com : dailylalbarta : dailylalbarta dailylalbarta
পঞ্চগড়-কক্সবাজার: ১০৭৭ কিমি রেলে জুড়ছে দেশের দুই প্রান্ত - দৈনিক লালবার্তা
শিরোনামঃ
" aria-hidden="true"> প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ " aria-hidden="true"> প্রতিটি সিটি করপোরেশন ও জেলায় মাস্টারপ্ল্যান করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী " aria-hidden="true"> প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ " aria-hidden="true"> মানুষের পাশে থেকে উন্নয়ন ও জনকল্যাণে কাজ করতে চাই। " aria-hidden="true"> এল‌ডি‌সি উত্তর‌ণের পরও বাংলাদেশের ৯২ শতাংশ পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা দে‌বে যুক্তরাজ্য " aria-hidden="true"> পুলিশে বড় রদবদল " aria-hidden="true"> এলপি গ্যাসের দাম আরও বাড়ছে, ঘোষণা আসছে " aria-hidden="true"> আখতারুজ্জামানকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ, আদালতকক্ষে হট্টগোল " aria-hidden="true"> পে ফিক্সেশন করতে যেসব তথ্য লাগবে সরকারি চাকরিজীবীদের " aria-hidden="true"> রোহিঙ্গা পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করেছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

পঞ্চগড়-কক্সবাজার: ১০৭৭ কিমি রেলে জুড়ছে দেশের দুই প্রান্ত

Reporter Name
  • আপডেটের সময়: Sunday, October 4, 2026,
  • 21 সময় দেখুন

জেড-আর মানিক, ঢাকাঃ-
উত্তরের পঞ্চগড় থেকে দক্ষিণ-পূর্বের সীমান্ত শহর কক্সবাজার— দেশের দুই প্রান্তকে সরাসরি এক সুতোয় বাঁধতে বড় পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। প্রায় ১ হাজার ৭৭ কিলোমিটারের এই দীর্ঘ রেল করিডোরকে ব্রডগেজ বা ডুয়েলগেজে রূপান্তর এবং নতুন লাইন নির্মাণে বাস্তবায়িত হচ্ছে পাঁচটি বড় প্রকল্প। এসব কাজ শেষ হলে পঞ্চগড় থেকে ঢাকা হয়ে কক্সবাজার পর্যন্ত সরাসরি ট্রেন পরিচালনার পাশাপাশি নতুন ২০টি আন্তঃনগরসহ দৈনিক প্রায় আড়াইশ ট্রেন চালানোর সুযোগ তৈরি হবে।

পাঁচ বছরের মধ্যে প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের এই পাঁচ প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্য রয়েছে। বাংলাদেশ রেলওয়ের কর্মকর্তারা জানান, প্রকল্পটি শেষ হলে শুধু যাত্রী পরিবহন নয়, দেশের এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে পণ্য ও কনটেইনার পরিবহনেও বড় ধরনের বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। বিশেষ করে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষিপণ্য এবং দক্ষিণাঞ্চলের সামুদ্রিক মাছ, লবণ ও শুঁটকি কম খরচে ও দ্রুততম সময়ে সারা দেশে পৌঁছানো সম্ভব হবে। পাশাপাশি কক্সবাজারকেন্দ্রিক পর্যটনেও উন্মোচিত হবে নতুন সম্ভাবনা।

রেলওয়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী, দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষও এখন সরাসরি রেলে চড়ে কক্সবাজার যেতে পারবেন। পুরো করিডোরজুড়ে দৈনিক আড়াইশ ট্রেন চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় ইঞ্জিন ও কোচ সংগ্রহের প্রক্রিয়াও চলছে। দীর্ঘ এই পথ চালু হলে রেলের আয় উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরও পড়ুনঃ  বৃত্তাকার সড়ক নির্মাণকাজের গতি বাড়ানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

রেলপথ মন্ত্রণালয় ও রেলওয়ের পরিকল্পনা দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, পঞ্চগড়-কক্সবাজার রেল যোগাযোগ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি প্রকল্প হলো— শান্তাহার-বগুড়া, বগুড়া-সিরাজগঞ্জ, টঙ্গী-আখাউড়া, লাকসাম-চট্টগ্রাম এবং চট্টগ্রাম-দোহাজারী রেলপথ।

উত্তরের পঞ্চগড় থেকে দক্ষিণ-পূর্বের কক্সবাজার পর্যন্ত ১০৭৭ কিলোমিটার দীর্ঘ করিডোর তৈরিতে বাস্তবায়ন হচ্ছে ৬০ হাজার কোটি টাকার ৫টি বড় প্রকল্প। আগামী ৫ বছরের মধ্যে শান্তাহার-বগুড়া, বগুড়া-সিরাজগঞ্জ, টঙ্গী-আখাউড়া, লাকসাম-চট্টগ্রাম ও চট্টগ্রাম-দোহাজারী অংশের উন্নয়ন শেষ হলে ঢাকার ওপর চাপ না বাড়িয়েই দৈনিক প্রায় আড়াইশ ট্রেন ও নতুন ২০টি আন্তঃনগর সফলভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে

এর মধ্যে টঙ্গী-আখাউড়া, লাকসাম-চট্টগ্রাম, চট্টগ্রাম-দোহাজারী ও শান্তাহার-বগুড়া অংশে ডুয়েলগেজ লাইন নির্মাণ ও উন্নয়নের কাজ চলছে। আর বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত নতুন ডুয়েলগেজ রেললাইন নির্মাণ করা হচ্ছে। এসব কাজ শেষ হলে পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলের রেল নেটওয়ার্কের মধ্যে বর্তমান বিভাজন অনেকটাই দূর হবে।

প্রকল্পগুলোর মধ্যে চট্টগ্রাম-দোহাজারী অংশে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা, সিরাজগঞ্জ-বগুড়া অংশে ১২ হাজার কোটি টাকা, লাকসাম-চট্টগ্রামে ১৫ হাজার কোটি টাকা, আখাউড়া-টঙ্গীতে ১৪ হাজার কোটি টাকা এবং শান্তাহার-বগুড়া রেলপথ উন্নয়নে ৭ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের হিসাব করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  জুলাই আন্দোলন ১৭ বছরের সংগ্রামের ফসল: ত্রাণমন্ত্রী

বাংলাদেশ-ভারত ট্রেন চলবে কবে?

রেলওয়ের দায়িত্বশীলরা ঢাকা পোস্টকে জানান, আগামী ১৫ থেকে ২০ বছরের মধ্যে মিটারগেজ ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশ্ববাজারে মিটারগেজের কোচ, ইঞ্জিন ও অন্যান্য রোলিংস্টক সামগ্রী তৈরিও কমে যাচ্ছে। এ কারণে দেশের রেলপথকে ধীরে ধীরে ব্রডগেজে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আগামী পাঁচ থেকে সাত বছরের মধ্যে দেশের পুরো রেলপথ ব্রডগেজ বা ডুয়েলগেজে রূপান্তরের কাজ এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

পাঁচ প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নে সম্মিলিতভাবে কাজ করছে রেলওয়ে। কর্মকর্তাদের মতে, এতে রেলের আয় বৃদ্ধি, যাত্রীসেবা ও নিরাপত্তা— তিন ক্ষেত্রেই সুফল পাওয়া যাবে। দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে মানুষ কক্সবাজার যেতে পারবেন। একইভাবে বিদেশি পর্যটকরাও রেলে করে দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ভ্রমণের সুযোগ পাবেন।

পঞ্চগড়-কক্সবাজার রেল করিডোরের অন্যতম বড় সুবিধা পাওয়া যাবে পণ্য পরিবহনে। বর্তমানে রেলের পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চল আলাদা ব্যবস্থায় পরিচালিত হলেও প্রস্তাবিত উন্নয়নকাজ শেষ হলে দুই অঞ্চল একই নেটওয়ার্কে যুক্ত হবে। ফলে যাত্রীবাহী ট্রেনের পাশাপাশি মালবাহী ও কনটেইনার ট্রেনও সরাসরি চলাচল করতে পারবে।

আরও পড়ুনঃ  প্রতিটি সিটি করপোরেশন ও জেলায় মাস্টারপ্ল্যান করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

পঞ্চগড়-কক্সবাজার রেলপথ চালুর মাধ্যমে পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলীয় রেলব্যবস্থা একই ডুয়েলগেজ নেটওয়ার্কে যুক্ত হবে। ফলে দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে সরাসরি কনটেইনার ও মালবাহী ট্রেন চলাচল ১০ গুণ পর্যন্ত বাড়বে। উত্তরাঞ্চলের কৃষিপণ্য এবং দক্ষিণাঞ্চলের সামুদ্রিক মাছ ও শুঁটকি দ্রুত পরিবহনের পাশাপাশি পর্যটন খাতে বড় গতি আসবে, যা ভবিষ্যতে রেলের মোট আয়ের অর্ধেকেরও বেশি জোগাবে

প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের পর মালবাহী ও কনটেইনার ট্রেন চলাচল প্রায় ১০ গুণ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষিপণ্য দেশের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলে এবং দক্ষিণাঞ্চলের লবণ ও শুঁটকি উত্তরাঞ্চলসহ দেশের অন্যান্য এলাকায় দ্রুত পাঠানো সম্ভব হবে। এতে পরিবহন ব্যয় ও সময় দুটিই কমতে পারে। দীর্ঘ এই করিডর চালু হলে রেলের আয়েও বড় পরিবর্তন আসবে। ভবিষ্যতে রেলের মোট আয়ের অর্ধেকের বেশি এই করিডর থেকে আসার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন কর্মকর্তারা।

পর্যটনের ক্ষেত্রেও নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, একই রেলযাত্রায় হিমালয়ের পাদদেশের পাহাড়ঘেরা উত্তরাঞ্চল ও সমুদ্রতীরের কক্সবাজার ঘুরে দেখার সুযোগ তৈরি হবে। এতে দেশি-বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি পর্যটন খাত থেকে রাজস্ব আয়ও বাড়তে পারে।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি। © দৈনিক লালবার্তা
Design & Development BY: BD IT HOST