
বার্তা ডেস্কঃ
উপমহাদেশের মুসলমানদের প্রথম রাজনৈতিক সংগঠন মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠাতা ও মুসলিম জাগরণের অগ্রদূত নবাব খাজা সলিমুল্লাহর ১৫৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের উদ্যোগে এক বিশেষ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিকালে রাজধানীর পুরানা পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে “১৯০৬-এর রাজনৈতিক জাগরণ থেকে ১৯৪৭-এর স্বাধীনতা: নবাব সলিমুল্লাহর দূরদর্শী নেতৃত্ব ও মুসলিম উম্মাহর আত্মপরিচয়” শীর্ষক এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এতে জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের সদস্য সচিব ডা. নাবিল আহমদের সঞ্চালনায় এবং আহ্বায়ক খোমেনী ইহসানের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন নবাব সলিমুল্লাহ একাডেমির চেয়ারম্যান আব্দুল জব্বার, অ্যাডভোকেট মোস্তফা জামাল ভুঁইয়া, ইঞ্জিনিয়ার একেএম রেজাউল করিম, উর্দুভাষী মুহাজির নেতা আফজাল ওয়ার্সি, মোহাম্মদ শামসুদ্দিন, মোহাম্মদ আজিম, আব্দুস সালাম, গালীব ইহসান প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, নবাব সলিমুল্লাহ ছিলেন এমন এক দূরদর্শী রাষ্ট্রচিন্তক ও রাজনৈতিক সংগঠক। তিনি উপমহাদেশের মুসলমানদের স্বতন্ত্র রাজনৈতিক পরিচয়ের স্থপতি ছিলেন। তার উদ্যোগ ও পৃষ্ঠপোষকতায় ১৯০৬ সালে ঢাকায় মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠা মুসলিম জাতির রাজনৈতিক জাগরণে এক যুগান্তকারী অধ্যায়ের সূচনা করে। পরবর্তীতে এই ধারাবাহিক রাজনৈতিক আন্দোলনই ১৯৪৭ সালে মুসলমানদের জন্য স্বাধীন পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করে। আর পাকিস্তান স্বাধীন হয়েছিল বলে পরবর্তীতে বাংলাদেশের জন্ম হয়েছে।
বক্তারা আরও বলেন, ১৯৪৭ সালে স্বাধীন রাষ্ট্র পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠা শুধু উপমহাদেশে সীমাবদ্ধ ঘটনা ছিল না। বরং বিংশ শতাব্দীতে পরাধীনতার শিকলে বন্দী মুসলিম বিশ্বের স্বাধীনতা অর্জনের সূচনা হয়েছিল পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে।
বক্তারা নবাব সলিমুল্লাহর জীবন, কর্ম ও রাজনৈতিক দর্শন নিয়ে আরও ব্যাপক গবেষণা, প্রচার এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে পরিচিতি বৃদ্ধির আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে খোমেনী ইহসান বলেন, নবাব খাজা সলিমুল্লাহ ছিলেন উপমহাদেশের মুসলিম জাতির আধুনিক রাজনীতির প্রধান স্থপতি। মুসলিম লীগ দল প্রতিষ্ঠা করে তিনি মুসলমানদের স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথ দেখিয়েছেন। তাই তার দূরদর্শী নেতৃত্ব ও আত্মত্যাগের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা সময়ের দাবি।