
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম এমপি বলেছেন, ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগ আসছে, এই ভয় দেখিয়ে জনগণের দাবি নিয়ে জামায়াতের আন্দোলন দমানো যাবে না। এটি পুরনো কৌশল, যা প্রয়োগ করে আওয়ামী লীগ ব্যর্থ হয়েছে।
তিনি বলেন, হাসিনা ডিসেম্বরে কেন এখনই দেশে আসুক। সরকার তাকে আনতে পারছে না কেন সেই প্রশ্ন করতে চাই। সরকার তাকে আনতে পারছে না যাদের ভয়ে, সেই কথা বলার সাহস পাচ্ছে না সরকার। এজন্য সবকিছু জামায়াতের ঘাড়ে চাপিয়ে দিচ্ছে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে রংপুর নগরীর শাপলা চত্বরে জামায়াতে ইসলামীর দলীয় কার্যালয়ে ‘রংপুর বিভাগীয় উন্নয়ন ফোরাম’ গঠন নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
জামায়াতের নায়েবে আমির বলেন, টাকা খেয়ে বিএনপির লোকেরা আওয়ামী লীগকে মিছিল করার সুযোগ করে দিচ্ছে। তারা টাকা কামাই করছে, তাই মিছিল হচ্ছে। এমন দ্বিচারিতা বন্ধ করেন। দেশের জনগণ ফেসবুক, টিভি, মিডিয়ায় সবকিছু দেখছে।
অনিয়ম-দুর্নীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, টাকার অভাব দেশের সমস্যা না, সৎ নেতৃত্বের অভাব রয়েছে। অযোগ্য, দুর্নীতিপরায়ণ নেতৃত্বের কারণে দেশের এই দুরবস্থা। এটি ঘোচাতে যোগ্য, সৎ লোকের নেতৃত্ব কায়েম করতে হবে। উন্নয়নের ক্ষেত্রে এর বিকল্প নেই।
রংপুরের উন্নয়ন নিয়ে তিনি বলেন, সরকার দলীয় লোকেরা বলছে, রংপুরের মানুষ নাকি সব সময় বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করে। তারা বিরোধী দলকে ভোট দেয়ার কারণে উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এজন্য আমরা কয়েকজন সংসদ সদস্য মিলে জাতীয় সংসদের ভূমিকা পালন করছি। সেই সাথে জনগণকে সাথে নিয়ে ন্যায্য হিস্যা পেতে মাঠে রয়েছি। আমরা কোনো দেশের চোখ রাঙ্গানিকে ভয় পাই না। আমরা সকল আধিপত্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে রয়েছি। আধিপত্যবাদী শক্তি ও তাদের দোসরদের পুর্নবাসন করা হলে পূর্বের চেয়ে করুণ পরিণতি হবে।
এসময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে রংপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে জামায়াতে ইসলামীর নেতা বলা হচ্ছে, অথচ তিনি দলের প্রাথমিক সদস্য মাত্র।
তার অভিযোগ, জামায়াতের কোনো নেতা কিছু বললে তা পত্রিকায় ছাপানো হয় না। কিন্তু তার ব্যাপারে যদি এমন কোনো কথা আসে, যাতে জনগণকে বিভ্রান্ত করা যাবে, তাহলে তাকে নেতা বানিয়ে দেওয়া হয়।
আজহারুল ইসলাম বলেন, টকশোতে যারা কথা বলেন, তারাই আবার বলেন যে জামায়াতে গেলেই নেতা হওয়া যায় না। অথচ কালকে দেখতে পেলাম আখতারুজ্জামান ভাইকে জামায়াতের নেতা বানিয়ে দেওয়া হয়েছে কারণ জনগণকে বিভ্রান্ত করা।
তিনি আরও বলেন, উনি (আখতারুজ্জামান) জামায়াতের নেতা না। তিনি সহযোগী সদস্য বা প্রাথমিক সদস্য হয়েছেন। জামায়াতে প্রাথমিক সদস্য হওয়ার পর কর্মী, তারপর সদস্য এবং এরপর নেতা হওয়া যায়। আখতারুজ্জামান ‘সিম্পল’ সদস্য মাত্র।
মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তারের তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জানিয়ে আজহারুল ইসলাম বলেন, সমস্যা সমাধান না করে সরকার আওয়ামী লীগের পথেই হাঁটছে। আইনের আশ্রয় নেওয়ার নামে আইনকে ব্যবহার করে বিরোধী দলকে দমনের পথ বেছে নেওয়া হচ্ছে, যা সরকারের জন্য সুখকর হবে না বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
বিএনপির উদ্দেশে তিনি বলেন, জেল-জুলুম দিয়ে বিরোধী দলকে দমন করা যাবে বলে যদি তারা মনে করে, তবে তারা বোকার স্বর্গে বাস করছে।
সংবাদ সম্মেলনে এটিএম আজহারুল ইসলাম এমপিকে আহ্বায়ক, রংপুর-৩ আসনের এমপি মাহবুবুর রহমান বেলালকে সদস্য সচিব করে ১৮ সদস্য বিশিষ্ট ‘রংপুর বিভাগীয় উন্নয়ন ফোরাম’ গঠন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, রংপুর-৫ আসনের এমপি গোলাম রব্বানী, রংপুর-১ আসনের রায়হান সিরাজী, কুড়িগ্রাম-১ আসনের আনোয়ারুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম-৪ আসনের মোস্তাফিজুর রহমান, নীলফামারী-১ আসনের আব্দুস সাত্তার, নীলফামারী-৩ আসনের ওবায়দুল্লাহ সালাফী, নীলফামারী-২ আসনের আল ফারুক আব্দুল লতীফ, নীলফামারী-৪ আসনের হাফেজ আব্দুল মুনতাকিম, গাইবান্ধা-২ আসনের আব্দুল করিম, গাইবান্ধা-৩ আসনের নজরুল ইসলাম, গাইবান্ধা-১ আসনের মাজেদুর রহমান, গাইবান্ধা-৫ আসনের মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল ওয়ারেসসহ অন্যরা।