
জুলাই আন্দোলন একদিনে সংঘটিত হয়নি, এটি দীর্ঘ ১৭ বছরের ধারাবাহিক সংগ্রামের চূড়ান্ত ফসল যা ২০২৪ সালের জুলাইয়ে এসে রূপ নিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।
শনিবার(৩ অক্টোবর) দুপুরে লালমনিরহাটের সার্কিট হাউস মিলনায়তনে বিগত সরকারের আমলে গুম, খুন, আহত এবং পারিবারিক ও ব্যবসায়ীকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও পরিবারের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানে জেলায় ক্ষতিগ্রস্ত ও শহীদ পরিবারের ১১১ জনের মাঝে আর্থিক সহায়তার চেক হস্তান্তর করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ত্রাণমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে যারা শহীদ ও নির্যাতিত হয়েছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের যোদ্ধাদের পাশাপাশি তাদেরও তালিকাভুক্ত করা জরুরি। কারণ তাদের দীর্ঘ আত্মত্যাগের মধ্য দিয়েই জুলাই আন্দোলনের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছিল এবং স্বৈরশাসকের পতন অনিবার্য হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে একজন মানবিক মানুষ উল্লেখ করে মন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, বিগত দিনে রাজনৈতিকভাবে নির্যাতিতদের বিষয়ে সরকার ইতিবাচক বিবেচনা করবে এবং তাদেরও দ্রুত গেজেটভুক্ত করে ভাতার আওতায় নিয়ে আসা হবে।
তিনি জানান, লালমনিরহাটে চিহ্নিত শহীদ ও ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা সংগ্রহ করে ইতিমধ্যেই আর্থিক সহায়তা প্রদান ও অনেককে চাকরির ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়া সারা বাংলাদেশেই চলমান রয়েছে।
তিস্তা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে বর্তমান সরকার আন্তরিকতার সাথে কাজ করছে। বর্তমানে এর কারিগরি সমীক্ষা চলমান রয়েছে এবং ২০২৭ সালের মধ্যেই তিস্তা মহাপরিকল্পনার মূল কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বিগত ১৭ বছরের রাজনৈতিক মামলা প্রসঙ্গে আসাদুল হাবিব দুলু জানান, বিগত আমলে দায়ের করা ভুয়া ও গায়েনি মামলাগুলো প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং নির্যাতিতরা ইতোমধ্যেই মামলা থেকে অব্যাহতি পাচ্ছেন।
অনুষ্ঠানে লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক মুহা. রাশেদুল হক প্রধান, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান এবং পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সালামসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।