মদিনা প্রতিনিধিঃ
রিয়াদ, সৌদি আরব: সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের আজিজিয়া এলাকা থেকে নিরব নামের এক প্রবাসী বাংলাদেশি যুবককে অপহরণের খবর পাওয়া গেছে। অপহরণকারীরা অপহৃতের পরিবারের কাছে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দাবি করছে এবং টাকা না দিলে তাকে হত্যার হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় নিরবের পরিবার ও তার প্রবাসী বন্ধু মহলের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।
ঘটনার বিবরণ ও মুক্তিপণ দাবি
জানা গেছে, ভালো কিছু করার স্বপ্ন নিয়ে মাত্র এক বছর আগে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন নরসিংদীর সন্তান নিরব। সেখানে তিনি একটি অনলাইন কোম্পানিতে ফুড ডেলিভারি কর্মী হিসেবে কাজ করছিলেন। কিন্তু গত কিছুদিন ধরে তিনি নিখোঁজ রয়েছেন।
ভুক্তভোগীর পরিবার ও বন্ধুদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, কুমিল্লা সদর দুর্গাপুর ইউনিয়নের আলগাচর গ্রামের বাসিন্দা মৃত রফিকের ছেলে মোঃ রুবেল মিয়া এই অপহরণ চক্রের মূল হোতা। রুবেল ও তার সহযোগীরা রিয়াদের আজিজিয়া থেকে নিরবকে তুলে নিয়ে যায়। প্রথমে অপহরণকারীরা ৫০ হাজার সৌদি রিয়াল মুক্তিপণ দাবি করলেও, সর্বশেষ ভিডিও বার্তা ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে ২৫ হাজার রিয়াল (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৮ লক্ষাধিক টাকা) দ্রুত পরিশোধ করার জন্য চাপ দিচ্ছে।
নির্যাতনের ভিডিও পাঠিয়ে হুমকি
অপরাধীরা নিরবের ওপর পাশবিক নির্যাতনের ভিডিও ধারণ করে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে বাংলাদেশে তার পরিবার এবং সৌদি আরবে থাকা বন্ধুদের কাছে পাঠিয়েছে। ভিডিও বার্তায় চরম নির্মমতার চিত্র ফুটিয়ে তুলে হুঙ্কার দেওয়া হয়েছে—যত দ্রুত সম্ভব ২৫ হাজার রিয়াল না দিলে নিরবের ‘মরা দেহ’ ফেরত দেওয়া হবে। এর আগেও অভিযুক্ত রুবেল মিয়ার বিরুদ্ধে প্রবাসীদের অপহরণ ও ব্ল্যাকমেইল করার একাধিক অভিযোগ রয়েছে বলে জানা গেছে।
দিশেহারা পরিবার ও বন্ধুদের আকুতি
এদিকে দালালের টাকা এবং প্রবাসে যাওয়ার খরচ তুলতে গিয়ে নিরবের পরিবার এখনো ঋণগ্রস্ত। এরই মধ্যে এই বিপুল পরিমাণ মুক্তিপণের দাবি আসায় পরিবারটির মাথায় আকাশ ভেঙে পড়েছে। স্বপ্ন পূরণের আশায় বুক বেঁধে ছেলেকে বিদেশ পাঠিয়ে এখন তার জীবন ভিক্ষা চাচ্ছেন বৃদ্ধ মা-বাবা।
অন্যদিকে, সৌদি আরবে থাকা নিরবের বন্ধু মহল দিন-রাত এক করে তার সন্ধান চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু এখনো পর্যন্ত নিরবকে ঠিক কোথায় আটকে রাখা হয়েছে, তার কোনো হদিস মেলেনি।
বাংলাদেশ দূতাবাসের হস্তক্ষেপ কামনা
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নিরবের জীবন বাঁচাতে এবং অপহরণকারী চক্রকে আইনের আওতায় আনতে রিয়াদে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের জরুরি ও কার্যকর সহযোগিতা কামনা করেছেন তার বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা। প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং একজন রেমিট্যান্স যোদ্ধাকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করতে দ্রুত কূটনৈতিক ও আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার জোরালো দাবি উঠেছে।