প্রয়াত জামায়াতের নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলার বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষের অন্যতম প্রধান সাক্ষী মানিক পশারীকে ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ দাবির পর এবার তার বিরুদ্ধে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য হাজির করলেন পিরোজপুর-১ আসনের এমপি মাসুদ সাঈদী।
রোববার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া পোস্টে তিনি দাবি করেছেন, টাকার বিনিময়ে মানিক পশারী দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছিলেন; যা তার ছোট ভাই চান মিয়া পশারীর বক্তব্যে উঠে এসেছে।
পোস্টে মাসুদ সাঈদী চান পশারীর একটি ভিডিও সাক্ষাৎকার শেয়ার করেছেন। ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘আল্লামা সাঈদীর বিরুদ্ধে করা মামলার ব্যাপারে মানিক পশারীর ভূমিকা এবং টাকা ও সরকারি সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ এবং আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি এমএ আউয়ালের ভূমিকার বিষয়ে তার ছোট ভাই চান পশারীর বক্তব্য শুনুন। সত্য কখনো চেপে রাখা যায় না।’
তবে ভিডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি যুগান্তর।
ওই সাক্ষাতকারে চান পশারী বলেন, ‘আমার নাম চান মিয়া পশারি। আমি এখন আছি হইল নিজের উপরে বুঝছেন? এরা বলতেছে যে, তোমাদের ঘর-দুয়ার পুড়াইছে কেডা? ঘটনাটা হইছে যেথায় (যখন) মানিক পশারীরে ডাকছে আর বোলাইছে।
‘বোলাইয়া ওই গাঙকুলে বইয়া আমরা...আমিও আছিলাম। বোলাইয়া (ডেকে) একা একা বোলায় (ডাকে) বোলাইয়া কইতাছে তুমি সাক্ষী দাও। আউয়াল মিয়া (সাবেক এমপি) গেছে আরও অনেক লোক গেছে।’
তিনি আরও বলেন, আউয়াল মিয়া ওই জায়গায় ছিল, জড়ো হইছিল সবাই। ডেকে কয় তুমি সাক্ষ্য দাও। আমরা কই যে, আমি মিথ্যা সাক্ষী দিতে পারবো না। এই সাইদীর উপর আমি মিথ্যা সাক্ষী দিতে পারব না।’
চান পশারী বলেন, ‘না পারব বলতে, আমার মানিক পশারী ভাইকে পয়সা খাওয়াইছে। তুমি চলো ওনার সাক্ষী লাগবে না। এই আমারে সরাই দিয়া মানিক পশারীর সাক্ষী নিছে। এই হেরা সাক্ষী দিয়া, কয়েকজনেই সাক্ষী দিছে।’
‘আরও কয়েকজন আমাগো বাড়ির পাশেই হেরা ওই সাঈদীর মীমাংসায় সাক্ষী দিছে, বুজলেন। এটুকু শুনে আমি চইলা আইছি যে, আমি আর সাক্ষী দিমু না। মিথ্যা সাক্ষী দিতে আমি নাই।’
তারা আপনাকে টাকা দিতে চেয়েছিল? এমন প্রশ্নে ভিডিওতে চান পশারীকে বলতে শোনা যায়, হ্যাঁ, আমারে টাকা সাধছে না! আমি তো টাকা খাওয়ার দিকে চাই নাই। আমি টাকা খাইতো না। আমি টাকা যদি খাইতাম...আইজ তো আমার ঘর-দুয়ার নাই। এতো...শেষ। মামুনের পাড়ায় দেইখেন আমাগো ঘর-দুয়ারও নাই। যদি আমি টাকা খাইতাম, হেরা টাকা খাইতে পারছে ঘর-দুয়ার সব হয়ে গেছে।’
ইব্রাহিম কুট্টি কীভাবে মারা গেল? প্রশ্নে ভিডিওতে চান পশারীকে বলতে শোনা যায়, ‘ইব্রাহিম কুট্টিরে নলবুনিয়া থেকে রাতে মাইরা সকালে লইয়া গেছে পাড়াকাডা। পাড়াকাডা আনার পর ওইখানে বইয়া রাত্রে মাইরা, এইখানে আইয়া, কোনো কিচু আর বলে নাই।’
কেডা মারলে বুঝলেন? জিজ্ঞাসা করা হলে চান পশারী বলেন, ‘এখন সাইদী সাহেবের দোষ কমু কী কইরা। হে তো কোনো দোষ করে নাই।’