শুক্রবার, ১৮ জুন ২০২১, ০৮:০৫ পূর্বাহ্ন

ঘোষনাঃ-
সারাদেশে সকল জেলা ও উপজেলায় প্রতিনিধি নিয়োগ করা হইবে, আগ্রহী প্রার্থীগণকে নিম্ন ঠিকানায় অথবা ইমেইল এ আবেদন পত্র জমা দেয়ার জন্য অনুরোধ করা হইলো।
শিরোনাম :
লালমনিরহাট  জমি নিয়ে সংঘর্ষে যুবক নিহত, আটক -৮ লালমনিরহাটে ৬ বছর আগে ছেলে হত্যা মামলায় ফেঁসে গেলেন বাবা! ভিডিও কনফারেন্স এ পাটগ্রামে মডেল মসজিদের উদ্বোধন হাতীবান্ধায়  ডিজিটাল ভূমি সেবা সপ্তাহ উপলক্ষে প্রেস কনফারেন্স লালমনিরহাটে রিপোর্টাস ইউনিটির যাত্রা শুরু বাজেট ঘোষণা’র আগেই পাটগ্রামে নিত্যপ্রয়োজনীয় ১০ টি পণ্যের বাজারদর ঊর্ধবমূখী! স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিক নির্যাতনকান্ডে বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি বিএমএসএফ’র পাটগ্রাম হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার গাফিলতি নেই- সহঃশিক্ষকদের আন্দোলনে গোড়ায়গলদ! দহগ্রামে বিজিবি’র মামলা রেকর্ডের পর মতবিনিময় সভায় চেয়ারম্যানের ক্ষমা প্রার্থনা! দহগ্রামে আইন শৃঙ্খলার দায়ে বিজিবি’র গোয়েন্দা ও পুলিশ তদন্তকেন্দ্র ইনচার্জকে ক্লোজড! পাটগ্রামে ভুট্টাক্ষত থেকে ফুটফুটে নবজাতক শিশু উদ্ধার করলেন এলাকাবাসী দহগ্রাম-আঙ্গরপোতায় বিজিবি গ্রামবাসী সংঘর্ষ, থানায় মামলা, আহত-১০ পাটগ্রাম থানার ওসি বদলি হলেন দিনাজপুর পাটগ্রামে বে-ওয়ারিশ কুকুরের উৎপাত বেড়েছে,পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৫ লালমনিরহাটে অটোরিক্সার চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে পোশাক শ্রমিকের মৃত্যু রোজিনা ইসলামের গ্রেপ্তারের ঘটনা দুঃখজনক : পররাষ্ট্রমন্ত্রী পাটগ্রামে অবৈধ বালু,পাথর উত্তোলনের দায়ে অর্ধ লাখ টাকা জরিমানা পাটগ্রামে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে সাংবাদিক রোজিনা’র মুক্তি দাবী অভাব অনটনে দিশেহারা বৃদ্ধ আফজাল; সংসার চলে বাঁশের মুড়ায়! সাংবাদিকতায় সম্মাননা পেলেন মোঃ আবদুল আউয়াল সরকার

পাটগ্রাম হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার গাফিলতি নেই- সহঃশিক্ষকদের আন্দোলনে গোড়ায়গলদ!

লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধি:

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কার্যালয়ে ১৩ তম গ্রেডিং পে-ফিক্সেশন কাজে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ তোলে আন্দোলন করেন সপ্রাবি সহকারী শিক্ষক একাংশ।বর্তমানে তারা সোস্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন আইডিতে লেখালেখির মাধ্যমে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে।

পাটগ্রাম উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম স্বাক্ষরিত একটি পত্র রংপুর ডিডি বরাবর পাঠানো হয়েছে। গত ৯ তারিখে পাঠানো ওই পত্রে সহকারী শিক্ষকদের ১৩ তম গ্রেডিং পে-ফিক্সেশন কাজের অগ্রগতি জানিয়ে আরও কিছুদিন সময় চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়,১ নং কুচলিবাড়ী সপ্রাবি সহকারী শিক্ষক সামিউল ইসলাম একজন কম্পিউটার এক্সপার্ট হিসেবে নিজে গ্রেডিং কাজ এগিয়ে নিতে সহায়তা করছেন। এ সময় তিনি বলেন,
প্রথমবার পে-ফিক্সেশন আইডিতে ভুল তথ্য দেয়ার কারণে প্রতিটি আইডি ডিলিট করা হচ্ছে। নতুন করে আবারও কাজ করা হচ্ছে।
কাজটি সরকারি কাজে ব্যবহৃত আইবাশ প্লাস সফটওয়্যারে করা হচ্ছে না। মাদার সফটওয়্যারে পে-ফিক্সেশন কাজটি করা হচ্ছে। উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম জানান, কাজ করতে গিয়ে এনআইডি নাম্বার বসানোর পর ভেরিভিকেশন কোড বসাতে হয়। এরপর স্কুলের নাম দু’বার সিলেক্ট করা,নতুন আইডি তৈরী করতে গিয়ে অর্ধেক কাজ শেষে সফটওয়্যার আপলোড ছেড়ে দেয়। অফিসে নেটওয়ার্ক কানেকশন ওয়াইফাই থাকার পরও কাজে ব্যাঘাত ঘটছে। সরকারের ঘোষণা মতে,গ্রেডিং পরিবর্তনে বিলম্ব হলেও সকল সুযোগ সুবিধা সহকারী শিক্ষক পাবেন।
এতে ঘাবড়েবার কোন কারণ নেই জানিয়ে এ কর্মকর্তা বলেন, পাটগ্রামের ১৪৫ সপ্রাবি’র ৭৩৬ শিক্ষকের মধ্যে প্রথম ৬৬ টি সপ্রাবি’র প্রধান শিক্ষক বাদে বিধিমোতাবেক চলতি দায়িত্ব প্রধান শিক্ষকগণও সহকারী শিক্ষকের তালিকাভুক্ত হবেন।

এ বিষয়ে পাটগ্রাম উপজেলা সহকারী শিক্ষক সমিতি’র আহবায়ক,জেলা সমিতি’র সাধারণ সম্পাদক,কেন্দ্রিয় সিনিয়র সহ-সভাপতি,পানবাড়ি সপ্রাবি প্রধান শিক্ষক( চলতি দায়িত্ব) ময়েজ উদ্দিন খাঁন বলেন,সহকারী শিক্ষকদের ১৩ তম গ্রেডিং পে-ফিক্সেশন কাজ বিলম্ব হচ্ছে এ বিষয়ে কেউ কোনদিন পরামর্শ করেননি।তবে শিক্ষকদের যৌক্তিক দাবী হিসেবে কাজটি দ্রুত করা দরকার বলে তিনি মনে করেন।

হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সহকারী শিক্ষকদের একাংশ আন্দোলন করায় পাটগ্রাম উপজেলা সহকারী শিক্ষক সমিতি’র যুগ্ম আহবায়ক,জেলা সমিতি’র সহ-সভাপতি,কেন্দ্রিয় যুগ্ম আহবায়ক, সোহাগপুর সপ্রাবি প্রধান শিক্ষক( চলতি দায়িত্ব) আব্দুল মান্নান বলেন, সরকার আমাদের দাবী মেনে নিয়ে সকল সহকারী শিক্ষককে ১৩ তম গ্রেডিং তালিকার ঘোষণা দিয়ে গত ৩ মে আইবাস প্লাস পরিবর্তন করে। সহকারী শিক্ষকের একাংশ সরকারের ঘোষণার পরের দিন ৪ মে পাটগ্রামে গ্রেডিং পে-ফিক্সেশন নিয়ে অকারণে আন্দোলন করেন। এ ধরেন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় একজন শিক্ষক হিসেবে দুঃখ লাগে।সরকারের আগের ঘোষনামতে স্নাতকে সেকেন্ড ক্লাশ আছে এমন ১৪৩ জনের ফাইল হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কাছে জমা দেয়া হয়।
কেন্দ্রে যেখানে আন্দোলন করে সকল সহকারী শিক্ষক ১৩ তম গ্রেডিং পেলেন।সেখানে পৌনে ৭ ‘শ সহকারী শিক্ষকের মধ্যে মাত্র ১৪৩ ফাইল জমা নিলে বাকীদের ফাইল নেয়া হল না কেন,এমন প্রশ্ন তুলে শিক্ষক এ নেতা জানান,সরকার আমাদের চলতি দায়িত্ব দিয়ে প্রধান শিক্ষক পদ-মর্যদা দিলেও বেতন -ভাতা সবই সহকারী শিক্ষক হিসেবে প্রাপ্য। কোন রকম আলোচনা পরামর্শ ছাড়াই এ ধরনের আন্দোলন তিনি সমর্থন করেন না।তাঁর মতে,সফটওয়্যার কাজ না করলে কিংবা পে-ফিক্সেশন আগের আইডিতে ত্রুটি থাকলে সে জন্য দায়ী কে ? ২ নং ঘোনাবাড়ি সপ্রাবি সহকারী শিক্ষক রইসুল ইসলাম ও ১ নং কুচলিবাড়ী সপ্রাবি প্রধান শিক্ষক মহসিন আলম বলেন,সহকারী শিক্ষকদের আন্দোলনে যাওয়া ঠিক হয়নি। যে কোন কাজ করার আগে গোড়ায়গলদ আছে কি’না তা ভাবতে হয়।

এ বিষয় ছাট পানবাড়ি সপ্রাবি সহকারী শিক্ষক আব্দুর রহিম প্রামানিক লিবন বলেন,
আমরা ন্যায্য দাবী নিয়ে আন্দোলন করেছি।
শিক্ষা অফিস ও হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা বিভিন্ন সময়ে আমাদের হয়রানী করেন।সমিতি’র আগের দায়িত্ববান সিনিয়ররা প্রধান শিক্ষক চলতি দায়িত্ব পাওয়ার পর অটো ওই কমিটি বিলুপ্ত হয়েছে।আমরা এরই মধ্যে কমিটি গঠন করবো।এখন আমরা যারা নেতৃত্ব দিচ্ছি তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে বলে আন্দোলনরত সহঃ শিক্ষক একাংশের এ নেতা সেলফোনে জানান।
বিষয়টি বড়ই উদ্বেগের জানিয়ে উপজেলা শিক্ষক সমিতি’র সভাপতি রেজানুর ইসলাম রেজা,সাধারণ সম্পাদক নুরকুতুবুল আলম একমত পোষণ করে বলেন এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষকগণ কারও পক্ষে – বিপক্ষে নেই। তবে আন্দোলনে যাওয়ার আগে পরামর্শ করা উচিত ছিল।
হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম একজন দক্ষ কর্মকর্তা,তাঁর অফিসে গেলে সম্মানের সাথে কাজ করে দেন বলে শিক্ষক নেতারা জানান।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০১৫ সালে প্রথম পে-ফিক্সেশন কাজ করতে গিয়ে অনলাইনে মাঠ পর্যায়ের অফিসের নামের জায়গায় ( কর্মস্থল) বিদ্যালয়ের নাম না দিয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসের নাম এন্ট্রি হয়। সে কারণে শিক্ষকরা উপজেলা শিক্ষা অফিসের স্টাপ হিসেবে গণ্য হয়েছেন। তাদের পেশাগত কর্মস্থল নিজ নিজ বিদ্যালয়ের নামে পরিচিতি পাওয়ার কথা।কর্মস্থল সঠিক না হওয়ায় এতদিন সেই আইডিগুলোর কারনে ১৩ তম গ্রেডিং কাজে ঝামেলা দেখা দিয়েছে।শিক্ষকদের নিজ আইডিতে এ ধরনের ভুল তথ্যের ফলে আগের পে-ফিক্সেশন আইডিগুলো ডিলিট করে নতুন করে কাজ করতে হচ্ছে। বিষয়টি ধরা পড়ায় হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগে সহকারী শিক্ষকদের আন্দোলনটি যেন গোড়ায়গলদ হিসেবে ঘ্যাঘের উপরে বিষফোঁড়া দেখা দিয়েছে।

এছাড়াও সরকারি চাকুরীবিধি অনুযায়ী না বুঝে কোন আন্দোলন করা,হট্রগোল পাকানো শাস্তিযোগ্য অপরাধ। সরকারি কর্মকর্তা -কর্মচারী আচরণ বিধি মালা ১৯৮৫ সালে ৪(১) এর ২ উপধারায় শৃঙ্খলাভঙ্গ ও মিথ্যা অভিযোগ তোলায় আন্দোলন প্রশ্নবিদ্ধ হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2018 Daily Lal Barta
Design & Developed BY N Host BD