মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২০, ০৭:৪২ অপরাহ্ন

ঘোষনাঃ-
সারাদেশে সকল জেলা ও উপজেলায় প্রতিনিধি নিয়োগ করা হইবে, আগ্রহী প্রার্থীগণকে নিম্ন ঠিকানায় অথবা ইমেইল এ আবেদন পত্র জমা দেয়ার জন্য অনুরোধ করা হইলো।
শিরোনাম :
লালমনিরহাট পৌরসভার মশক নিধন অভিযান শুরু বঙ্গমাতার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ডিমলায় নারীর মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ রংপুর সিটি প্রেসক্লাবের সাধারণ সভায় স্বপন সভাপতি : মানিক সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত লালমনিরহাটে অস্ত্র মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামী এর জমজমাট মাদক ব্যবসা লালমনিরহাটে মুসলিম এইড এর কোরবানির গোস্ত ও অর্থ বিতরণ পাটগ্রামের আকাশ থেকে নক্ষত্রের বিদায়: একটি পর্যালোচনা তিস্তার পাড়ের মানুষ নদী ভাঙন রোধে কার্যকর বাঁধের দাবিতে নদীর তীরে মানববন্ধন খুব শীঘ্রই শেষ হতে যাচ্ছে বেসরকারি শিক্ষকদের ভোগান্তির অবসান লালমনিরহাটে স্বামীকে হত্যার দায়ে নববধু পুলিশের হাতে আটক লালমনিরহাটে সাংবাদিকের বাড়ীতে সন্ত্রাসী হামলা দম্পতিসহ আহত ৫, তিনদিনেও গ্রেফতার হয়নি, মামলা তুলে নেয়ার হুমকী দিনাজপুর জেলা পুলিশের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচীতে পুলিশ সুপার বঙ্গবন্ধু এদেশ স্বাধীন করেছেন বলেই আজকে আপনি আমি সোনার বাংলাদেশ পেয়েছি মালয়েশিয়ার ব্রাইটন ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের প্রথম সমাবর্তন লালমনিরহাটে সাংবাদিক বদিয়ার রহমানের পরিবারের উপর অতর্কিত হামলা মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে বৃক্ষরোপন করেছে প্রফিট ফাউন্ডেশনের ইয়ুথ সদস্যরা। চাঙ্গা হয়ে উঠতেছে দৈখাওয়ার হাট লালমনিরহাটে প্রফিট ফাউন্ডেশন এর কার্য-নির্বাহী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত পাটগ্রামে পুলিশের মাদক বিরোধী অভিযান, ৯০পিস ইয়াবাসহ আটক-২ হাতীবান্ধায় ধর্ষনের পর হত্যার চেষ্টা সঙ্গাহীন অবস্থায় ধান ক্ষেত থেকে এক ছাত্রী উদ্ধার শরীয়তপুর নড়িয়া’য় পাকা সড়ক সহ প্লাবিত নিম্নাঞ্চল, জাজিরা’য় ভাঙ্গন সহ ১৫ হাজার মানুষ পানিবন্ধি প্রকাশিত সংবাদের ব্যাখ্যা

গরমে স্বাস্থ্য সুরক্ষা…!

মোঃআবদুল আউয়াল সরকারঃ
সময়টা গরমের। এরমধ্যে হুটহাট কালবৈশাখী ঝড় কিংবা একটু আধটু বৃষ্টির দেখা মিললেও শেষ পযন্ত কিন্তু রাজত্বটা গরমেরই। গরমের সময় কমন কিছু রোগের পাশাপাশি হিটস্ট্রোকের মতো মারাত্মক সমস্যায়ও আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। ঘামাচি, পানিস্বল্পতা ছাড়াও জ্বর, অবসাদ, অ্যালার্জি, সূর্যরশ্মিতে চামড়া পুড়ের যাওয়া, ফুড পয়জনিং বা বদহজমের কারণে বমি বা ডায়রিয়া ইত্যাদি সমস্যাও বাড়ছে।
গরমের সময় পানিস্বল্পতা বা ডিহাইড্রেশনের সমস্যা বেশি হয়। এই সময় ঘামের কারণে পানির সঙ্গে সঙ্গে শরীর থেকে প্রয়োজনীয় লবণও বেরিয়ে যায়। এতে রক্তচাপ কমে শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে। বিশেষ করে পানিশূন্যতার জন্য মাথা ব্যথা বা মাথা ঝিমঝিম করে। এ ধরনের সমস্যাকে অবহেলা করা ঠিক নয়। বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ, অসুস্থ ব্যক্তি, যাদের রোদের মধ্যে বা গরমের মধ্যেই বাইরে কাজ করতে হয়, যারা প্রয়োজনমতো পানি পান করে না বা করার সুযোগ পায় না, তাদের ক্ষেত্রে মারাত্মক সমস্যা তৈরি করতে পারে। তীব্র পানিস্বল্পতায় জ্ঞান হারিয়ে ফেলা কিংবা কিডনি বিকল হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনাও ঘটে।
তাই এ সময়ে মাঝেমধ্যে পানি পান করা উচিত। পাশাপাশি ডাব, তরমুজ বা পানিজাতীয় ফলমূল বেশি খাওয়া উচিত। এতে পানিশূন্যতা রোধসহ শরীরে পানির ভারসাম্য রক্ষা হয়।

শরীরে অতিরিক্ত ঘাম তৈরি হয়ে ঘর্মগ্রন্থি ও নালি ফেটে ত্বকের নিচে ঘাম জমতে থাকে। আবার ঘাম ও ময়লা জমে ঘর্মনালির মুখ বন্ধ হয়ে ইনফেকশনও হতে পারে। অনেকের ঘামে প্রচুর গন্ধও হতে পারে। ব্যাকটেরিয়া ছাড়াও ঘাম ও ময়লার কারণে ছত্রাকজনিত রোগও এ সময় বেশি হয়।
যারা সরাসরি সূর্যের আলোর নিচে বেশিক্ষণ থাকে, তাদের ত্বক পুড়ে যেতে পারে। এতে ত্বক লাল হয়ে যায়, জ্বালাপোড়া করে, চুলকায় ও ফোসকা পড়ে। মূলত সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মিই এর জন্য দায়ী।

খাবার খেয়ে বারবার বমি করা, পাতলা পায়খানা হওয়া, জ্বর, পেট ব্যথা, বমি ইত্যাদি বেশি হলে ধরে নেওয়া যায় ফুড পয়জনিং বা খাদ্যে বিষক্রিয়ার কারণে এমনটি হচ্ছে। গরমের সময় ফুড পয়জনিং বেশি হয়। এ সময় খাবার দ্রুত পচে যায় বলে এতে জীবাণু সহজে সংক্রমিত হয়। এ জন্য বাসি বা পচা খাবার, অস্বাস্থ্যকর ও জীবাণুযুক্ত খাবার, গরমে নষ্ট হয়ে যাওয়া খাবার খাওয়া উচিত নয়। পাশাপাশি হাত-মুখ, থালা-বাটি ভালোভাবে ধুয়ে, পথেঘাটে তৈরি খাবার না খেয়ে স্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার খেলে ফুড পয়জনিংয়ের আশঙ্কা কমে।
এ ধরনের সমস্যা হলে ডাবের পানি, স্যালাইন, শরবত ইত্যাদি বেশি বেশি খাওয়া যেতে পারে। রোগী মুখে না খেতে পারলে এবং জটিল পরিস্থিতি মনে হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

হিটস্ট্রোকঃ যখন শরীরের তাপমাত্রা পরিবেশের অত্যধিক তাপমাত্রার কারণে বেড়ে যায়। কখনো কখনো এই তাপমাত্রা বেড়ে ১০৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা তার কাছাকাছিও যেতে পারে। এটা একটা জটিল পরিস্থিতি, যা হঠাৎ ঘটে। সাধারণত চার বছর বয়স পর্যন্ত শিশুরা এবং ৬০ বছরের ঊর্ধ্ব বয়সী বৃদ্ধরা, যাঁদের গরমে সহ্যক্ষমতা কম, কিডনি, হার্ট, লিভার, ডায়াবেটিসের রোগী, যথেষ্ট পানি পান করেন না বা যাঁরা ক্রীড়াবিদ, ব্যায়ামবিদ এবং প্রচণ্ড রোদে কাজ করেন—এমন লোকেরা হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হতে পারেন।
হিটস্ট্রোকে দেহে পানির পরিমাণ কমে যেতে পারে। শরীরের তাপমাত্রা হঠাৎ অনেক বেড়ে যায় (১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা তারও বেশি হতে পারে), এ সময় তেমন ঘাম হয় না এবং ত্বকের বর্ণ লালচে হয়, নিঃশ্বাস দ্রুত হয়, মাংসপেশির খিঁচুনি হয়, হাত-পা কাঁপে, হৃৎস্পন্দন দ্রুত বা ক্ষীণ হয় এবং রক্তচাপ কমে যায়, বমি বমি ভাব অথবা বমি হয়, প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যায়, তীব্র মাথা ব্যথা, মাথা ঘোরা বা মাথা ঝিমঝিম করে, পেশি দুর্বল হয়ে আসে, অনেক সময় রোগী পুরো নিস্তেজ হয়ে পড়ে যায়, এমনকি আক্রান্ত ব্যক্তি কোমা বা শকে চলে যেতে পারে।
হিটস্ট্রোককে কোনোভাবেই অবহেলা করা উচিত নয়। দ্রুত ও সঠিকভাবে হিটস্ট্রোকের চিকিৎসা না করালে মৃত্যুও হতে পারে। যেমন :
আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরের তাপমাত্রা কমাতে ঠাণ্ডা বা বরফ মিশ্রিত পানি দিয়ে শরীর মুছে দিন। বিশেষ করে রোগীর বগল, কুঁচকি, ঘাড়সহ নানা স্থান মুছে দিন।
আক্রান্ত ব্যক্তিকে শুইয়ে দিন, পা একটু উঁচু করে দিন। মাথা একটু নিচের দিকে থাকা ভালো।
শরীরের কাপড় খুলে দিন বা আলগা করে দিন। মোজা-জুতা অবশ্যই খুলে দিন।
রোগীর জ্ঞান থাকলে পানি, ডাবের পানি, শরবত, জুস বা খাবার স্যালাইন দিন। রোগীকে গোসল করতে বলুন। শরীরে পানি ঢালার ব্যবস্থা করুন।
যদি জ্ঞান হারিয়ে ফেলে, তবে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নিন। এ অবস্থায় ঘরে চিকিৎসা করার সুযোগ নেই।

গরমের সরাসরি প্রভাব ছাড়াও অন্য কিছু সমস্যা হতে পারে। গরমে পানির তীব্র অভাব থাকায় পানিদূষণ বেশি হয়। মানুষ বাধ্য হয়েও দূষিত পানি গ্রহণ করে। অনেক সময় অজান্তেই জীবাণুযুক্ত পানীয় পান করে। এ কারণে টাইফয়েড, হেপাটাইটিস ‘ই’ ইত্যাদি বেশি হতে দেখা যায়। ডায়রিয়া ও পেটের অন্যান্য পীড়ায়ও অনেকে আক্রান্ত হয়। এসব রোগ থেকে বাঁচতে যেখানে-সেখানে শরবত, পানি ইত্যাদি পান করবেন না। বিশেষ করে রাস্তাঘাটে তৈরি শরবত মোটেই পান করবেন না। বরং বিশুদ্ধ পানি পান করুন।
প্রয়োজন ছাড়া সরাসরি রোদে যাবেন না। যথাসম্ভব ঘরের ভেতরে বা ছায়াযুক্ত স্থানে থাকতে চেষ্টা করুন।
বাইরে বের হলে যতটা সম্ভব সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলুন। গরমের দিনে ঘেমে যাওয়ার পর পরিচ্ছন্ন গোসল খুবই দরকার।

মোঃআবদুল আউয়াল সরকার
চিকিৎসা প্রযুক্তিবিদ
শিক্ষক: কুমিল্লা আইএইচটি এন্ড ম্যাটস, কুমিল্লা।

নিউজটি শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2018 Daily Lal Barta
Design & Developed BY N Host BD